Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বন্ধ হয়ে গেলো রংপুরের একমাত্র সিনেমা হল ‌‘শাপলা টকিজ’

Published August 2, 2026 · Updated August 2, 2026 · By Elizabeth Martin - bangladailypost.com

Foto : Elizabeth Martin - bangladailypost.com

রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শাপলা টকিজের যাত্রা সমাপ্ত

Bangladailypost.com – বন ধ হয গ ল র প - বিভাগীয় শহর রংপুরে এখন আর কোনো সিনেমা হল অবশিষ্ট নেই। গত শুক্রবার থেকে পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে শাপলা টকিজ। শনিবার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. শাহাবুদ্দিন।

১৯৭৮ সালের ১৬ জুন যাত্রা শুরু করেছিল এই ঐতিহ্যবাহী হল। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রংপুরের একজন সফল ব্যবসায়ী মাসুম মিয়া। ২০০৭ সালে তিনি কোনো সন্তান না রেখে দেহত্যাগ করেন। এরপর তার ভাই মন্টু মিয়া হলটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু দর্শক সংখ্যা কমে যাওয়া এবং ক্রমাগত লোকসানের কারণে তিনি হলটি ভাড়া দিতে বাধ্য হন।

চলচ্চিত্র প্রযোজক কামাল হোসেন হলটি ভাড়া নেন। ২০০৬ সাল থেকে বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনিই হলটি পরিচালনা করছিলেন। মন্টু মিয়ার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীরা পরিচালনার দায়িত্ব পান।

সম্প্রতি শাপলা টকিজের নামে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজন তরুণ ও তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। এই ঘটনা মালিকপক্ষকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

হলটি ভাড়ায় পরিচালিত হলে অনৈতিক কাজের অভিযোগ ওঠে। এটি আমরা মেনে নিতে পারিনি। ফলে রংপুর চেম্বারের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সাইদুর রহমান সুমন এই কথাগুলো বলেন। গত শুক্রবার থেকে হলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রংপুরের সিনেমা হলের ইতিহাস

দুই যুগ আগে রংপুর শহর এলাকায় নয়টি সিনেমা হল সচল ছিল। ওরিয়েন্টাল, লক্ষ্মী টকিজ, সেনা অডিটোরিয়াম, বিডিআর হল, শাপলা টকিজ, দরদী হল, নূরমহল, চাৗনা টকিজ এবং রুমা হল—এগুলো সবই তখন সক্রিয় ছিল।

এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় আরও অনেক হল ছিল। গঙ্গাচড়া উপজেলার মিলন টকিজ ও বনরূপা, মিঠাপুকুরের ঝিনুক, সোহাগ, নূপুর ও বলাকা, বদরগঞ্জের মিতা ও কথাকলি, কাউনিয়ার ঝংকার ও সানাই, পীরগাছার মিতা, সদরের পাগলাপীরের মেরি ও ভাই ভাই টকিজ, নজিরের হাটের বন্ধু টকিজ—এগুলো এখন সবাই বন্ধ।

ব্রিটিশ আমলে বাংলার প্রথম সিনেমা হল ছিল রংপুর ড্রামাটিক। ১৯৪৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসানের পর এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মডার্ন হল। পরে পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসনকালে মডার্ন হলে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। তখন থেকেই ওই হলে সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ হয়ে যায়।

এর বেশ কয়েক বছর পর মডার্ন হলকে সংস্কার করে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রসহ নাটক ও থিয়েটারের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। পরে এ হলটির নাম রাখা হয় টাউন হল। এখন সেখানে আর সিনেমা দেখানো হয় না। বর্তমানে এখানে নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সভা-সমাবেশসহ নিয়মিত বিভিন্ন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৫৫-৬০ সালের দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র বর্তমান সিটি বাজারের বিপরীত দিকে পাকিস্তানি এক ওষুধ ব্যবসায়ী ওরিয়েন্টাল হল নির্মাণ করেন। প্রায় ওই সময়েই টাউন হলের বিপরীত দিকে রূপালি হলের (পরবর্তী নাম লক্ষ্মী) যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন সময়ে মূলত এ দুটি হলই ছিল দর্শকদের চলচ্চিত্র বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র।

১৯৮৫-৮৬ সালের দিকে বন্ধ হয় ওরিয়েন্টাল হল। শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে না পেরে ২০০৫ সালে লক্ষ্মী হলও বন্ধ হয়ে যায়।

জিতু কবীর/কেএসআর