Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

পাহাড়ে আমের ছড়াছড়ি: দাম কমায় ক্রেতা খুশি, লোকসানে চাষি

Published June 16, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Sandra Rodriguez - bangladailypost.com

Foto : Sandra Rodriguez - bangladailypost.com

পাহাড়ি জেলায় মৌসুমী আম বাজারে আসছে সামান্য দামে

Bangladailypost.com – প হ ড় আম র ছড় ছড় - রাঙ্গামাটি জেলার বনরুপা বাজারে বর্তমান মৌসুমে আম প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত হয়েছে। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় ক্রেতারা সস্তা দামে এসব ফল পেয়েছেন। উপজেলাগুলোতে বিশেষ করে পাহাড়ের মাটিতে উৎপাদিত আম্রপালি, রাংগুই, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও হাড়িভাঙ্গা আমের ব্যবসা করা হচ্ছে।

বিশ্বখ্যাত জাতের আমের বাগান বাড়ছে

জেলায় এখন স্থানীয় জাতের পাশাপাশি রাংগুই (মিয়ানমারের জাত), আম্রপালি (ভারতের জাত) ও ব্রুনাই কিং মতো বিশ্বখ্যাত আমের বাগান গড়ে উঠছে। সমতা ঘাটে প্রায় প্রতিদিন মৌসুমি ফলের হাট বসে। এখানে স্থানীয় ব্যবসায়ী ছাড়াও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ফল কিনে দেশের বিভিন্ন কোণে আড়তে নিয়ে যান।

“এ বছর ফলন ভালো হওয়াতে সস্তায় আম্রপালি ও রাংগুই জাতের আম বিক্রি করছি। তিন কেজি মাত্র ১০০ টাকায় পাবেন। কেউ যদি বেশি নেয় তখন দাম কিছু কমেও দেবো।”

লোকসানে কৃষকদের চাষ ধীরে চলছে

বাজারে আমের দাম নিয়ে চাষিরা হতাশ হয়ে আছেন। তারা বলছেন, বাগান করা এবং ফলনে খরচ অনেক বেশি। পরিবহন খরচ যুক্ত করলে ক্ষতি ছাড়া লাভ হয় না। লংগদু উপজেলার কৃষক সাধন বিকাশ চাকমা বলেন, দুই একর জমি দিয়ে আম বাগান বিক্রি করেছি মাত্র এক লক্ষ টাকায়।

“বাজারে দাম নেই বলে পাইকার এখনো আম গাছ থেকে পাড়ছে না। সিজনের শেষে কিছুটা দাম বাড়তে পারে। তখন তারা আম সংগ্রহ শুরু করবে।”

রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ২০২৪-২৫ মৌসুমে জেলায় তিন হাজার ৬২৫ হেক্টর ভূমিতে ৩৮ হাজার ২৮৫ টন আম উৎপাদন হয়েছিল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে আবাদ বাড়ছে তিন হাজার ৬৩৫ হেক্টরে। পাহাড়ের ঢাল ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

“পাহাড়ে আমের উৎপাদন বেশি হওয়ায় এ বছর দাম অনেক কম। আম পরিবহনে খরচ অনেক বেশি পড়ে। ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহারে আম পোকা ও ছত্রাকমুক্ত থাকে, কিন্তু প্রতিটি ব্যাগের দাম তিন থেকে সাড়ে তিন টাকা হওয়ায় ক্ষুদ্র চাষীদের এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।”

সমতা ঘাটের পাইকারি ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিন বাবলু বলেন, “বাজার থেকে হাড়িভাঙ্গা আম প্রতি মণ এক হাজার থেকে এক হাজার ৬০ টাকা, আম্রপালি এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০ টাকা এবং রাংগুই প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”

বাজারে বিক্রি করতে আবু দারদা খান আরমান থেকে আম নিয়ে আসা হচ্ছে মাত্র ৮০ টাকা কেজিতে। অনেক চাষি আম চাষে নেমেছেন কিন্তু দাম না পেলে তাদের তো লোকসান গুণতে হবে।