Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

দুই মাসে ২৬ ট্রান্সফরমার চুরি, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতাসহ গ্রেফতার ৫

Published September 15, 2026 · Updated September 15, 2026 · By Karen Wilson - bangladailypost.com

Foto : Karen Wilson - bangladailypost.com

মাদারগঞ্জে ট্রান্সফরমার চুরি তদন্তে পাঁচজন কারাগারে

Bangladailypost.com – দ ই ম স ২৬ ট র - জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির একাধিক ঘটনার তদন্তে স্বেচ্ছাসেবকদলের এক নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন মাদারগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক রাসেল মিয়া। অন্য চারজন হলেন উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাদাগাড়ী এলাকার অবিনুর, সেলিম, সুমন এবং সুমন ওরফে নুরু মিয়া। রাসেল মিয়ার বাড়ি গাবেরগ্রাম এলাকায়।

দুই মাসে ২৬টির বেশি ট্রান্সফরমার উধাও

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই মাসে মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ২৬টিরও বেশি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় সাধারণ গ্রাহক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষকদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎনির্ভর সেচ, দোকানপাটের কার্যক্রম এবং ঘরোয়া প্রয়োজনের সঙ্গে ট্রান্সফরমার সরাসরি যুক্ত থাকায় একটি এলাকায় এমন চুরির প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ট্রান্সফরমার চুরি শুধু একটি যন্ত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা নয়; এর ফলে সংশ্লিষ্ট লাইনের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ বা সীমিত হয়ে যেতে পারে। নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন, কারিগরি পরীক্ষা এবং নিরাপদভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করতে সময় প্রয়োজন হয়। এ কারণে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ বাড়ে।

ঘটনাগুলোর পর মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস থানায় অভিযোগ দেয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পায়। পরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

সরঞ্জাম জব্দ, মূল হোতাদের খোঁজ চলছে

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ট্রান্সফরমার চুরির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় এসব সরঞ্জাম জব্দ করে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টরা এখন চক্রটির অন্য সদস্য, চোরাই মালামালের সম্ভাব্য গন্তব্য এবং পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছেন।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহাশীস রায় বলেন, গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানোর পাশাপাশি সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির পেছনে থাকা ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ চলছে।

“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

পুলিশের এই তদন্তে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলো গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ট্রান্সফরমার অপসারণে বিদ্যুৎ লাইনের সঙ্গে কাজ করতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনুমতি ছাড়া বা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া বিদ্যুৎ সরঞ্জামে হাত দেওয়া প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর ক্ষতি এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা থাকে।

দলীয় পদ নিয়ে সংগঠনের অবস্থান

গ্রেফতারদের মধ্যে রাসেল মিয়া স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের একটি ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বে থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সংগঠনটির মাদারগঞ্জ পৌর শাখা জানিয়েছে, কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় সংগঠন বহন করবে না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

“কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণের বিষয়। তবে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মধ্যে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং চুরির পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর দাবি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মাদারগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করা হলে এ ধরনের ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে। সন্দেহজনকভাবে বিদ্যুৎ লাইনের কাছে কাজ করা ব্যক্তি বা যানবাহন দেখলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিস কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো জরুরি। এতে চুরি প্রতিরোধের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক কাজ থেকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনাও এড়ানো যেতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is দ ই ম স ২৬ ট র?

দ ই ম স ২৬ ট র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does দ ই ম স ২৬ ট র matter?

দ ই ম স ২৬ ট র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.