দুই মাসেই স্বপ্নযাত্রার করুণ সমাপ্তি, স্পেন থেকে কফিনে ফিরলেন আলিফ
স্পেনের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো আলিফের দাফন কালীগঞ্জে
Bangladailypost.com – দ ই ম স ই স বপ - পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় মাত্র দুই মাস আগে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন ইউসুফ হাসান আলিফ। নতুন দেশে কর্মজীবন গুছিয়ে নেওয়ার আগেই মাদ্রিদের একটি সাইকেল গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে কফিনবন্দী মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর গাজীপুরের কালীগঞ্জে নিজ বাড়িতে নেওয়া হয় তাকে। জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয় ২৫ বছর বয়সী এই তরুণকে।
সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। বিমান অবতরণের পর তাদের প্রতীক্ষা শেষ হলেও প্রিয়জনকে আর জীবিত ফিরে পাওয়া গেল না। সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে ঢাকা পৌঁছানো বিমানে ছিল আলিফের মরদেহ। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কফিনটি পৌঁছায় কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও গ্রামের বাড়িতে।
মরদেহ বাড়িতে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির আঙিনা। প্রতিবেশী, বন্ধু ও পরিচিতজনেরা শেষবারের মতো আলিফকে দেখতে ছুটে আসেন। কয়েক মাস আগেও এই বাড়ি থেকেই হাসিমুখে বিদেশযাত্রা করেছিলেন তিনি; পরিবারের চোখে ছিল তার কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বচ্ছলতা ফেরার প্রত্যাশা।
দুই দিনের ব্যবধানে পাওয়া কাজের অনুমতি
আলিফ ছিলেন উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে। উন্নত ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের আশা নিয়ে তিনি স্পেনে যান। মাদ্রিদে ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে কাজের অনুমতি পান আলিফ। যে অনুমতি তার প্রবাসজীবনকে স্থিতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারত, তার আনন্দ উপভোগের সুযোগও আর পাননি তিনি। অল্প সময়ের মধ্যে দেশের বাইরে কাজ শুরু করা এক তরুণের স্বপ্ন এভাবেই থেমে যায় দুর্ঘটনার আগুনে।
মাদ্রিদের গ্যারেজে আগুন
গত ৩০ আগস্ট, রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে মাদ্রিদের আরগানসুয়েলা এলাকার পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকায় কাইয়ে কানারিয়াস সড়কের একটি সাইকেল গ্যারেজে আগুন লাগে। ঘটনার সময় গ্যারেজের ভেতরে আটকা পড়েন আলিফ। আগুনের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়া পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
শ্বাসকষ্টের মধ্যে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি। তার পাঠানো শেষ বার্তাটি ছিল—
“আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।”
এর পর আর তার কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি গ্যারেজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর গ্যাস সরানোর কাজ করা হয়। আগুন আবার ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সেখানে থাকা অন্য বৈদ্যুতিক বাইসাইকেলও বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে উদ্ধার তৎপরতা শেষ হওয়ার আগেই আলিফকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষাক্ত ধোঁয়ার প্রভাব এবং শ্বাসনালিতে গুরুতর দাহজনিত ক্ষত তার মৃত্যুর কারণ বলে পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
প্রবাসে জানাজা, এরপর দেশে ফেরা
আলিফের মৃত্যুর সংবাদ স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোক তৈরি করে। ৪ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের জামে মসজিদে বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসে থাকা স্বদেশিরা সেদিন তার নিথর দেহ কাঁধে বহন করে বিদায় জানান।
এরপর শুরু হয় মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর ১০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-১৩৬০ ফ্লাইটে আলিফের মরদেহ মাদ্রিদ থেকে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। ইস্তাম্বুল থেকে টিকে-৭৪২ ফ্লাইটে সেটি ঢাকার পথে রওনা দেয়।
নির্ধারিত সময়ের ২৩ মিনিট পরে শুক্রবার সকালে বিমানটি ঢাকায় অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ নেওয়া হয় কালীগঞ্জের উত্তরগাঁওয়ে। বিদেশে নতুন জীবন গড়ার জন্য যে পথচলা শুরু হয়েছিল, তার শেষ গন্তব্য হয় নিজের গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান।
শেষ বিদায়ে শোকাহত উত্তরগাঁও
বাড়িতে মরদেহ পৌঁছানোর পর উত্তরগাঁও উত্তরপাড়া জামে মসজিদে বাদ জুমা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এলাকার মানুষ, স্বজন ও পরিচিতজনেরা অংশ নেন। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, সকালে প্রবাসী বাংলাদেশি ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায় এবং জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
আলিফের স্বজনদের জন্য এই ফিরে আসা কেবল একটি মরদেহ গ্রহণের ঘটনা নয়; এটি অপূর্ণ থেকে যাওয়া বহু প্রত্যাশার বিদায়। পরিবারের জন্য কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে যাওয়া তরুণটি ফিরলেন কফিনে। তার জীবনের শেষ বার্তা, আগুনের মধ্যে সাহায্যের আকুতি এবং অল্পদিনের প্রবাসজীবনের পরিণতি উত্তরগাঁওয়ের মানুষের শোকে দীর্ঘদিন স্মরণ হয়ে থাকবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is দ ই ম স ই স বপ?দ ই ম স ই স বপ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does দ ই ম স ই স বপ matter?দ ই ম স ই স বপ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.