AMP
Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

দামের চাপে ফুল থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন ক্রেতারা

Published August 19, 2026 · Updated August 19, 2026 · By Daniel Williams - bangladailypost.com

Foto : Daniel Williams - bangladailypost.com

Bangladailypost.com – দ ম র চ প ফ ল - বরিশালে কয়েক মাসের ব্যবধানে কাঁচা ফুলের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, প্রতিকূল আবহাওয়া, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। এতে একদিকে যেমন বাড়তি দামে ফুল কিনে বিপাকে পড়ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনের বাইরে ফুল কিনতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬ মাস আগেও এক হাজার গাঁদা ফুলের ক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ৩০০ টাকা। বর্তমানে একই পরিমাণ গাঁদা কিনতে হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়। অর্থাৎ এক হাজার গাঁদা ফুলের দাম বেড়েছে প্রায় ছয় গুণের বেশি। রজনীগন্ধার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। আগে প্রতি পিস রজনীগন্ধার ক্রয়মূল্য ছিল ৫ থেকে ৬ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ২২ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি ফুলে দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ টাকা। দেশি গোলাপের দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। ছয় মাস আগে যেখানে একশ গোলাপের দাম ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বর্তমানে সেই একশ গোলাপ কিনতে হচ্ছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। এতে ছয় মাসের ব্যবধানে একশ গোলাপে দাম বেড়েছে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫৫০ টাকা। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, বিদেশি ফুলের দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি পিস লিলি কিনতে হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, যা বিক্রি করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। বিদেশি গোলাপ প্রতি পিস ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, বিক্রি করতে হচ্ছে ২০০ টাকায়। ১২০ টাকার সূর্যমুখী বিক্রি করতে হচ্ছে ২০০ টাকা এবং জিপসাম ফুল কেজিপ্রতি প্রায় ৩ হাজার টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। যা বিক্রি করতে হয় ৪ হাজার টাকায়। ফুল কিনতে আসা সাইদুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, আগে একটি দেশি গোলাপ ৫ থেকে ১০ টাকা ছিল। এখন একটি গোলাপ কিনতে হয় ৩০ টাকায়। বিভিন্ন দিবসে ৩০ টাকার গোলাপ ৫০ টাকাতেও কিনতে হয়। ফুলের দাম নির্ধারণে একটা উদ্যোগ নেওয়া উচিত। আরেক ক্রেতা আলাউদ্দিন বলেন, কিছুদিন আগেও একটি ফুলের তোড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনতে পারতাম। এখন সেই ফুলের তোড়া ২ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফুলের দাম কেন এত বেশি, জানাতে চাইলে দোকানিরা বলেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই দাম বেড়েছে। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে ৫/৬ গুণ বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক। ফুলের দাম নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান এই ক্রেতা। আরেক ক্রেতা ফারুক হোসেন বলেন, আগে ১০০-২০০ টাকার মধ্যে যে পরিমাণ ফুল কিনতে পারতাম, এখন একই ফুল কিনতে অনেক বেশি টাকা লাগে। তাই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এখন আর ফুল কেনা হয় না। আরেক ক্রেতা শামীম বলেন, ফুল উপহার দিতে ভালো লাগে, কিন্তু দাম অনেক বেড়ে গেছে। কয়েকটি গোলাপ কিনতেই যে টাকা লাগে, তা আমাদের মতো সাধারণ পরিবারের জন্য বাড়তি খরচ। তাই আজকাল একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ফুল কেনা হয় না। ফুল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মুজাহার আলী গাজী বলেন, ফুলের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। আগে বরিশালে ১২ থেকে ১৩ জন ফুল ব্যবসায়ী সক্রিয় থাকলেও তাদের মধ্যে এরইমধ্যে ৩ থেকে ৪ জন ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। তিনি বলেন, আগে একটি ফুলের দোকানে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। অথচ দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন ব্যয়ের মতো খরচ আগের মতোই রয়েছে। ফলে বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। মুজাহার আলী গাজী আরও বলেন, ফুল উৎপাদন থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায় পর্যন্ত একটি যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা দরকার। এতে কৃষক ন্যায্য দাম পাবেন, ব্যবসায়ীরাও যুক্তিসঙ্গত লাভ করতে পারবেন এবং ক্রেতারাও সহনীয় দামে ফুল কিনতে পারবেন। আনন্দ ফুল ঘরের মালিক পবন রায় বলেন, তারা ঢাকার শাহবাগ ও আগারগাঁওয়ের পাইকারি বাজার থেকে ফুল সংগ্রহ করেন। সেখানে যে দামে ফুল পাওয়া যায়, সেই দাম অনুযায়ী তাদেরও দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করতে হয়। তিনি বলেন, ফুল পচনশীল পণ্য হওয়ায় দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে দ্রুত ফুল বাজারে আনতে হয়। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারের দামে পড়ছে। বাড়তি দামে ফুল কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে গিয়ে ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও লোকসানে পড়ছেন। পুষ্প ঘরের মালিক শংকর রায় বলেন, ফুলের দাম বেড়ে যাওয়ার পর সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে আগের মতো ফুল কেনার আগ্রহ নেই। এখন বিশেষ দিন ও অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক ফুলের চাহিদাই বেশি। বিশেষ করে বিয়ে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাঁচা ফুলের পরিবর্তে অনেকে কৃত্রিম ফুল ব্যবহার করছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁচা ফুলের পাশাপাশি কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়াও তাদের ব্যবসায় প্রভাব ফেলছে। কৃত্রিম ফুল একবার কিনে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে কাঁচা ফুল কয়েকদিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অনেক ক্রেতা এখন খরচ বিবেচনায় কৃত্রিম ফুলকে বেছে নিচ্ছেন। নগরীর বেলস পার্কের খুচরা ফুল ব্যবসায়ী দেলোয়ার বলেন, ফুলের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন থেকে মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। আগে যেখানে অল্প টাকায় একগুচ্ছ ফুল বা কয়েকটি গোলাপ কেনা সম্ভব ছিল, এখন একই পরিমাণ ফুল কিনতে তাদের কয়েক গুণ বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ফলে অনেকে প্রয়োজন ছাড়া ফুল কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। ফুল ব্যবসায়ী নাঈম বলেন, বিভিন্ন দিবস ও সামাজিক অনুষ্ঠানই এখন ব্যবসায়ীদের বড় ভরসা। এরমধ্যে পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ঈদ, বিয়ে, গায়ে হলুদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করেই ফুলের বেচা বিক্রি চলে। অন্য সময়ে বিক্রি না থাকলেও লোকসান দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে। বরিশালের ফুল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মুজাহার আলী গাজী বলেন, ফুল উৎপাদন থেকে ক্রেতা পর্যায়ে সরবরাহ পর্যন্ত যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা দরকার। এতে চাষি যেমন ন্যায্য দাম পাবেন, তেমনি ব্যবসায়ীরাও যুক্তিসংগত লাভ করতে পারবেন এবং ক্রেতারাও সহনীয় দামে ফুল কিনতে পারবেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is দ ম র চ প ফ ল?

দ ম র চ প ফ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does দ ম র চ প ফ ল matter?

দ ম র চ প ফ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.