ঝিনাইদহ / লোডশেডিংয়ে থমকে গেছে সেচ, ব্যাহত কল-কারখানার উৎপাদন
ঝিনাইদহে বিদ্যুৎ সংকট: সেচ ও শিল্পোৎপাদনে ব্যাঘাত
Bangladailypost.com – ঝ ন ইদহ ল ডশ ড য় - জ্বালানি সংকটের প্রভাবে ঝিনাইদহে বিদ্যুৎ সরবরাহে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ার কারণে দিনে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চলতি আমন মৌসুমে সেচকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জেলার মিল ও কল-কারখানার উৎপাদনও কমে গেছে। সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং বিদ্যুৎনির্ভর যানবাহনের চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
চাহিদা ও সরবরাহের পার্থক্য
জেলা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে ঝিনাইদহ জেলায় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৩০ মেগাওয়াট। এই ঘাটতি মেটাতে ওজোপাডিকো রেশনিং পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে একই সঞ্চালন লাইনে দিনে ৯ থেকে ১০ বার লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঝিনাইদহ ওজোপাডিকো এইভাবেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কিছুটা বাড়ানোর পরে লোডশেডিং কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে ওজোপাডিকোর একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে গ্রাহকরা ওজোপাডিকোর এমন দাবি নাকচ করেছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ
ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মাহমুদুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের লোডশেডিং মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। এরপর দেড় দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং। এতে বাসায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।
সদর উপজেলার শালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লোডশেডিং মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে। গ্রামে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তী দুই আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ফসলের জমিতে সেচ দিতে পারছি না। এভাবে চললে তো চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতি হবে।
উত্তরনারায়ণপুর বাজারের চালকলের মালিক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, বিদ্যুৎ কয়েকদিন ধরে কম পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে মিল চালাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শ্রমিকরাও বিব্রতময় পড়েছেন। মিল থেকে চাল উৎপাদন কমে গেছে। কল-কারখানা এলাকার বিশেষ ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ালে এই ভোগান্তি হত থাকবে না।
কৃষকদের দুশ্চিন্তা
এদিকে চলতি আমন মৌসুমে জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণের কাজে এখন ব্যস্ততম দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। এই অবস্থায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে জমি প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ফসল রোপণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক।
সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, আমরা পল্লি বিদ্যুতের গ্রাহক। পল্লি বিদ্যুতে লোডশেডিংয়ের কোনো শেষ নেই। সারা দিনে হয়তো ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করতে পারছি না। লোডশেডিংয়ের কারণে বৈদ্যুতিক, সেচপাম্প সব প্রায় বন্ধ। বিদ্যুৎ এলেও ভোল্টেজ ওঠানামা করার মোটর পুড়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে আমরা।
অফিসিয়াল দাবি
গ্রাহকদের অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও লোডশেডিং ও বিদ্যুতের ঘাটতির বিষয় নাকচ করে দিয়েছেন ঝিনাইদহ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্টরা। ঝিনাইদহ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওমর আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ঝিনাইদহে কোনো লোডশেডিং বা বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। আমরা যতটুকু বিদ্যুৎ পাচ্ছি, ততটুকুই বিতরণ করছি। লোডশেডিং অসহনীয় পর্যায়ে নেই।
ঝিনাইদহ ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মহিম লোডশেডিং ও বিদ্যুতের ঘাটতি প্রসঙ্গে বলেন, জেলার বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট। বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৩০ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ১০ মেগাওয়াট ঘাটতি মেটাতে রেশনিং পদ্ধতিতে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই এ ধরনের সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।
এম শাহাজান/কেএইচকে/জেআইএম
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ঝ ন ইদহ ল ডশ ড য়?ঝ ন ইদহ ল ডশ ড য় is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ঝ ন ইদহ ল ডশ ড য় matter?ঝ ন ইদহ ল ডশ ড য় matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.