Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

জুলাই গণঅভ্যুত্থান / ‘পুলিশের গুলিতে’ শহীদ হলেও আসামির তালিকায় নেই পুলিশের নাম

Published July 28, 2026 · Updated August 2, 2026 · By Karen Wilson - bangladailypost.com

Foto : Karen Wilson - bangladailypost.com

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে শহীদ শিক্ষার্থীর মামলায় আসামি তালিকায় পুলিশের নাম নেই

Bangladailypost.com – জ ল ই গণঅভ য ত থ - জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণীয় দিনগুলোতে ধামরাইয়ে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আফিকুল ইসলাম সাদের শহীদ হওয়ার ঘটনাটি এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আওসামী লীগের ৮২ জন নেতাকর্মীর নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, পুলিশের কোনো সদস্যের নাম মামলায় আসেনি। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতারা পুলিশ কর্মকর্তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

৫ আগস্ট 'মার্চ ফর ঢাকা' মিছিলের সময় ধামরাইয়ের হার্ডিঞ্জ স্কুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে আফিকুল ইসলাম সাদ গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শহীদ হন। তার নানা আজিম উদ্দিন বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদসহ আওসামী লীগের ৮২ নেতাকর্মীর নামে হত্যা মামলা করেন।

সাক্ষীদের বক্তব্য: পুলিশই গুলি করেছে

সকাল বেলা শরীফবাগ সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ এক মহিলাকে গুলি করে। এই খবর পেয়ে আমরা বের হই। একপর্যায়ে থানার দিকে যাই। তখনই পুলিশ গুলি করতে শুরু করে। সাদ সঙ্গেই ছিল। একপর্যায়ে সে বললো, সাকিব নিচু হয়ে থাকো, নাহয় মাথায় গুলি লাগবে। এই কথা শোনার ২ মিনিটের মধ্যে আমি তার থেকে প্রায় ১০ ফিট দূরে আছি। তখন দেখি একজন পড়ে আছে।

আফিকুল ইসলাম সাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাকিব সেদিনের ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, গুলি লাগছিল কপালের ওপর। পুলিশই গুলি করছে। তিনি আরও বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথম তাকে নিয়ে ইসলামপুর হাসপাতালে গেলাম। এরপর গণস্বাস্থ্যে এরপর সাভার গেছি। তখন পুলিশ গায়েও গুলি করে। প্রায় ৩ ঘণ্টা হুড়ানি হই।

আফিকুল ইসলাম সাদের বাবা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্ট সকালে মিছিলে অংশ নিয়ে যখন হার্ডিঞ্জ স্কুলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, এ সময় হার্ডিঞ্জের পাশেই থানা, থানা থেকে পুলিশ বেরিয়ে, সেই মিছিলে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। সেই গুলিতে আফিকুল ইসলাম সাদ কপালে গুলিবিদ্ধ হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আফিকুল ইসলাম সাদ ৮ আগস্ট সকালে শাহাদাত বরণ করে।

তদন্ত চলমান: আসামি তালিকায় পুলিশের নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধামরাই উপজেলার আহ্বায়ক উজ্জ্বল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তৎকালীন থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের নামে কোনো মামলা হয়নি। আর এসবের নির্দেশদাতারা অর্থাৎ ওই ঘটনার আগে ১৬, ১৭, ১৮ জুলাই আওসামী লীগের যেসব নেতারা আমাদের আন্দোলন ধ্বংস করতে চেষ্টা করে, তাদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

ধামরাই থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলামের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি আত্মগোপনে যান। বর্তমানে তার অবস্থান সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ বলছে, এ ঘটনার দায়ের করা মামলার তদন্ত এখনও চলমান। তদন্তের পর জড়িতদের নাম যুক্ত করে দেওয়া হবে প্রতিবেদন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কাউকে যদি এজাহারনামার আসামি না করা হয়, আর তদন্তে যদি কোনো পর্যায়ে গিয়ে কোনো ব্যক্তির ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে। মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে এ মামলার এজাহারনামার ২৫ জনসহ মোট ৯৩ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।