AMP
Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

জামালপুর জিলা স্কুলে একটি টয়লেট ব্যবহার করে ১০১ জন ছাত্র

Published August 15, 2026 · Updated August 15, 2026 · By Elizabeth Martin - bangladailypost.com

Foto : Elizabeth Martin - bangladailypost.com

জামালপুর জিলা স্কুল: ঐতিহ্য আর আধুনিক চ্যালেঞ্জের মিলনমেলা

Bangladailypost.com – জ ম লপ র জ ল স - ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত জামালপুর জিলা স্কুল দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রায় দেড় শতাব্দীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী, বোর্ডসেরা ফলাফল এবং দেশের প্রশাসন, বিচার বিভাগ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত গুণীজনের পদচারণায় সমৃদ্ধ এই বিদ্যালয়। তবে ঐতিহ্য আর সাফল্যের আড়ালে আজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে অবকাঠামোগত সংকট, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, শ্রেণিকক্ষের চাপ ও আধুনিক শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি।

শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের সমস্যা

বর্তমানে প্রভাতি ও দিবা দুই শিফটে বিদ্যালয়ে মোট ১ হাজার ৫১৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের পাঠদান করছেন ৫১ জন শিক্ষক। অর্থাৎ প্রতি শিক্ষকের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, আরও দুইজন শিক্ষক প্রয়োজন। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৩টি শ্রেণিকক্ষে দুই শিফটে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে গড়ে ৫৫ জন শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করে এবং একটি বেঞ্চে চারজন করে বসতে হয়।

সীমিত অবকাঠামোর কারণে ১৯৯০ সাল থেকে দুই শিফটে পাঠদান চালু রয়েছে। আগে প্রতিটি ক্লাস ৪৫ মিনিট করে অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমানে প্রথম ক্লাসের সময় ৫০ মিনিট এবং পরবর্তী প্রতিটি ক্লাস ৪০ মিনিট করা হয়েছে। সীমিত শ্রেণিকক্ষ ও দুই শিফটে পাঠদান পরিচালনার কারণে সময়সূচিতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রযুক্তি ও ল্যাবের অবস্থা

বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও কম্পিউটার উভয় ল্যাবই রয়েছে। তবে বিজ্ঞান ল্যাবে প্রয়োজনীয় কিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপকরণের ঘাটতি থাকায় শিক্ষার্থীরা সব ধরনের ব্যবহারিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ পায় না। অন্যদিকে কম্পিউটার ল্যাবের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। বিদ্যালয়ের মোট ৩১টি কম্পিউটারের মধ্যে ১১টি অচল হয়ে পড়া বাতিল করে স্টোররুমে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট ২০টির মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৭টি সচল রয়েছে।

ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও পর্যাপ্ত ব্যবহারযোগ্য কম্পিউটার না থাকায় অনেক সময় একাধিক শিক্ষার্থীকে একটি কম্পিউটার ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রয়োজন অনুযায়ী বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ল্যাব ব্যবহার করা হলেও শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, বিজ্ঞান ল্যাবের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং উভয় ল্যাবের আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি।

ভর্তি পদ্ধতিতে পরিবর্তন

একসময় এই বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হতো। সেসময় মেধার ভিত্তিতেই ভর্তির সুযোগ মিলত বলে অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনেকেরই ধারণা। তবে গত ছয় বছর ধরে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার সেই সুযোগ আর নেই। এ কারণে অনেকের মতে, আগের মতো শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে সেরা শিক্ষার্থীদের বাছাই করা সম্ভব হচ্ছে না এবং জেলার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও এখন এই বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গৌরব

দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দেওয়া অসংখ্য ব্যক্তি এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে পাঁচটি ল্যাবরেটরি, একটি কম্পিউটার ল্যাব, একটি বিজ্ঞান ল্যাব, একটি পাঠাগার এবং স্কাউট, বিএনসিসি ও রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জেলার শিক্ষার মান ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই বিদ্যালয়ের ছাত্র মনোরঞ্জন সরকার ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবম স্থান অর্জন করেন। ১৯৪৪ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এ এম এম গোলাম কিবরিয়া, এ.কে.এম গোলাম রববানী, মো. আবুল কাশেম, হাবিবুর রহমান, মো. জাহেদুল ইসলাম, জ্ঞানেন্দ্র চন্দ্র আচার্য্য, শামীম ইকবাল, সোহেল রানা, রবিউল আওয়াল ও মাহমুদুল হাসান বোর্ডের মেধা তালিকায় স্থান লাভ করেন।

সাবেক পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের প্রথম স্পিকার আব্দুল করিম, সাবেক প্রাদেশিক খাদ্য ও মৎস্য মন্ত্রী গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ, সাবেক পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের চিফ হুইপ খান বাহাদুর ফজলুর রহমান, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন পিডব্লিউডি প্রধান মনিষ চন্দ্র দত্ত, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শফি সামী, প্রাক্তন সচিব মতিউল ইসলাম ও ড. এ কে এম গোলাম রববানী, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর নুরুল ইসলাম, প্রাক্তন বিভাগীয় কমিশনার আবু তাহা মিয়া, এফবিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি আনিসুল হক, প্রাক্তন এমপিএ অ্যাডভোকেট হায়দার আলী মল্লিক, প্রাক্তন এমএনএ আব্দুল হামিদ, প্রাক্তন এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম, সংগীতজ্ঞ মরহুম ওস্তাদ ফজলুল হক, অভিনেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজনীতিবিদ মীর্জা সুলতান রাজা প্রমুখ জামালপুর জিলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন।

তবে ঐতিহ্য ও গৌরবের এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে তাল মেলাতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আল নাহিয়ান জয় জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের স্কুলে বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে, কিন্তু যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। অনেক সময় একাধিক শিক্ষার্থীকে একটি কম্পিউটার ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is জ ম লপ র জ ল স?

জ ম লপ র জ ল স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does জ ম লপ র জ ল স matter?

জ ম লপ র জ ল স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.