Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

চাঁদা বকেয়া থাকায় স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা গেল না নাসির উদ্দিনকে

Published August 1, 2026 · Updated August 2, 2026 · By Jennifer Garcia - bangladailypost.com

Foto : Jennifer Garcia - bangladailypost.com

চাঁদা বকেয়া থাকা সত্ত্বেও দাফন করা হলো না নাসির উদ্দিনকে

Bangladailypost.com – চ দ বক য থ ক য় - কুষ্টিয়ার মিরপুরে চাঁদা বকেয়া থাকায় এক ব্যক্তির মরদেহ স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের পুরাতন আজমপুর এলাকায় গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে মো. নাসির উদ্দিন মারা যান। তার কোনো ছেলে সন্তান নেই, তিন মেয়ে ঢাকায় বসবাস করেন।

পরিবারের অভিযোগ ও দাবি

মৃত ওই ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, আজমপুর পুরাতন পাড়া গোরস্থানের চাঁদা না দেওয়ার কারণে প্রথমে তাদের কাছে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দাবি করে। পরে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দাফনের অনুমতি মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, নাসির উদ্দিন দীর্ঘদিন গোরস্থানের মাসিক বা বাৎসরিক চাঁদা পরিশোধ করেননি। তাই এককালীন ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।

মৃত ওই ব্যক্তির পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে হাতে যত টাকা আছে তা দিয়ে বাকি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা বলেন। এমনকি ২ থেকে ৩ কিস্তিতে বকেয়া গোরস্থানের চাঁদার টাকা পরিশোধ করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন। কিন্তু গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার তাতেও রাজি হননি।

প্রথমে বলা হয় ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাগবে। আমরা টাকা দিতে রাজি ছিলাম, প্রয়োজনে কিস্তিতেও দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরে বলা হয়, টাকা দিলেও বাবাকে সেখানে দাফন করা হবে না। — মোছা. নাসিমা খাতুন

রাজনৈতিক প্রভাব ও গোরস্থান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়রা জানান, নাসির উদ্দিনের বাবা মৃত আহমদ আলী ওই গোরস্থানের সদস্য ছিলেন এবং তাকে সেখানেই দাফন করা হয়েছিল। তাই নাসির উদ্দিনের পরিবারও স্বাভাবিকভাবেই একই গোরস্থানে দাফনের আশা করেছিলেন।

স্থানীয় আশা মেম্বার তার নিজের পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করেন। সদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বিএনপির ওয়ার্ড সেক্রেটারি আশরাফুল হক আশা বলেন, নাসির উদ্দিনের বাবা নিয়মিত চাঁদা দিতেন। তার মৃত্যুর পর নাসির আর চাঁদা দেয়নি। কিন্তু মৃত্যুর পর তার পরিবার এককালীন টাকা দিতেও রাজি হয়েছিল।

গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার বলেন, আমাদের গোরস্থানে প্রায় ১৪০ জন সদস্য রয়েছে। কেবল সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এখানে দাফন করা হয়। নাসির উদ্দিন সদস্য ছিলেন না। তাই তাকে দাফনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, সদস্যরা কেউ ৫০০ টাকা, কেউ ১ হাজার টাকা, আবার কেউ ধান দিয়ে চাঁদা পরিশোধ করেন।

অন্যদিকে গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার বলেন, আমাদের গোরস্থানে প্রায় ১৪০ জন সদস্য রয়েছে। কেবল সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এখানে দাফন করা হয়। নাসির উদ্দিন সদস্য ছিলেন না। তাই তাকে দাফনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ৩৫-৪৫ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ সঠিক নয়।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, সাধারণত জনসাধারণের ব্যবহৃত গোরস্থানে এ ধরনের নিয়ম থাকে না। তবে এটি যদি সম্পূর্ণ পারিবারিক গোরস্থান হয়, তাহলে আলাদা বিষয়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।