Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ঘুসের রেট ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ, টাকা ছাড়া কাজ করেন না ভূমি কর্মকর্তা

Published September 11, 2026 · Updated September 11, 2026 · By Sandra Rodriguez - bangladailypost.com

Foto : Sandra Rodriguez - bangladailypost.com

সাটুরিয়ার ভূমি কার্যালয়ে সেবা পেতে ঘুসের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

Bangladailypost.com – ঘ স র র ট ২০ হ - মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে নামজারি ও জমি-সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে অনিয়মের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সেবাপ্রার্থী। তাদের অভিযোগ, নিয়মমাফিক আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কাজ দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। পরে সমস্যার সমাধানের কথা বলে ২০ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস চাওয়া হয় বলে তারা দাবি করেন।

অভিযোগগুলোর কেন্দ্রে রয়েছেন দরগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব। সেবাপ্রার্থীদের ভাষ্য, টাকা না দিলে তদন্ত, যাচাই কিংবা আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নানা জটিলতার কথা বলা হয়। কিন্তু চাহিদামতো অর্থ দেওয়ার পর একই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি

ভুক্তভোগী আনছের আলী জানান, জমি খারিজ বা নামজারির জন্য তিনি প্রায় দেড় বছর ভূমি কার্যালয়ে ঘুরেছেন। তার দাবি, একাধিকবার বিভিন্ন ত্রুটির কথা বলে আবেদন বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত তাকে কর্মকর্তার কক্ষের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে ২০ হাজার টাকা দিতে বলা হয়েছিল।

“নামজারি করার জন্য আমি দেড় বছর ঘুরেছি। বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে আমার আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়। পরে পাশের একটি রুমে নিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দেওয়ার পরই আমার নামজারি করে দেওয়া হয়। দেড় বছর ঘুরে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি।”

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কাজটি সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তিনি ওই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। তার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, অর্থ ছাড়া সঠিক কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে পড়ে।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন দরগ্রাম ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ মতিউর রহমান। তার ভাষ্য, ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের মাধ্যমে নিজের তিনটি জায়গার খারিজ করাতে তাকে মোট ৯০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

“ভূমি অফিস থেকে এই ইউনিয়নের আমার তিনটি জায়গার খারিজ করেছি। এজন্য আমার কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা নিয়েছে।”

টাকা না দিলে জটিলতা দেখানোর অভিযোগ

দরগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া বলেন, ভূমি কার্যালয়ের নায়েব টাকা ছাড়া কোনো কাজ করতে চান না বলে তার অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, অর্থ না দিলে আবেদনে নানা ধরনের সমস্যা দেখানো হয়, কিন্তু টাকা দেওয়ার পর দ্রুত সমাধান পাওয়া যায়।

“আমাদের দড়গ্রাম ইউনিয়নের ভূমি অফিসের নায়েব টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না। টাকা না দিলে নানান সমস্যা দেখায়। টাকা দিলেই সব কিছুই সমাধান করে দেয়।”

মাদার উদ্দিনও জমি খারিজের সময় একই অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তার অভিযোগ, জমির নামজারির কাজ করতে গিয়ে তাকে কর্মকর্তার কক্ষের পাশে নিয়ে ২০ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। টাকা দেওয়ার পর তার জমির খারিজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।

“আমি জমি খারিজ করতে গিয়েছিলাম। নায়েব আমাকে তার রুমের পাশের রুমে নিয়ে গিয়ে ২০ হাজার টাকা চায়। আমি দিয়ে আসি। তারপর আমাদের জমিটা খারিজ করে দেয় নায়েব।”

সেবাপ্রার্থীদের এসব বক্তব্যে একটি সাধারণ অভিযোগ উঠে এসেছে—আবেদনকারী কাগজপত্র প্রস্তুত রেখেও যদি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেবা না পান, তাহলে তাকে বারবার অফিসে আসতে হয়। এতে সময়, যাতায়াত ব্যয় এবং অনিশ্চয়তা বাড়ে। জমি-সংক্রান্ত নথি মানুষের মালিকানা, কেনাবেচা ও ভবিষ্যৎ আইনি প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় নামজারি আটকে থাকলে ভোগান্তি আরও গভীর হতে পারে।

ভিডিওতে টাকা গোনার দৃশ্যের দাবি

মৌখিক অভিযোগের বাইরে একটি ভিডিওও পাওয়া গেছে, যেখানে দরগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেবকে সেবাপ্রার্থীর দেওয়া টাকা গুনে দেখতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটি অভিযোগগুলোর বিষয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে ভিডিওটির প্রেক্ষাপট ও অর্থ লেনদেনের কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি আব্দুল মোতালেব। অভিযোগের মুখে তিনি কোনো মন্তব্য না করলেও টাকা দিয়ে এই প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভূমি অফিসে নামজারি, খারিজ ও অন্যান্য জমি-সংক্রান্ত কাজে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। আবেদনকারীদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি, জমির তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। কিন্তু এসব প্রক্রিয়ার আড়ালে অননুমোদিত অর্থ দাবি করা হলে সেবার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে বিষয়টি শুধু একজন আবেদনকারীর ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; জনসেবার ওপর মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সত্যতা মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থার কথা

সাটুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

“তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলীও বলেছেন, ভূমি প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অনিয়মে জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

“কোনো তহশিলদার বা ভূমি প্রশাসনের কোনো কর্মচারী কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এখন সেবাপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং ভূমি কার্যালয়ে নিয়মিত সেবা পেতে কাউকে যেন অতিরিক্ত অর্থ দিতে না হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সেবাপ্রক্রিয়ায় কার্যকর নজরদারি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ঘ স র র ট ২০ হ?

ঘ স র র ট ২০ হ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঘ স র র ট ২০ হ matter?

ঘ স র র ট ২০ হ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.