Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ঘরের মালামাল ডোবায় ফেলে দিয়েছে প্রতিপক্ষ, খোলা আকাশের নিচে পরিবার

Published September 2, 2026 · Updated September 2, 2026 · By Mary Williams - bangladailypost.com

Foto : Mary Williams - bangladailypost.com

জমি-বিরোধের আগুনে ভস্মীভূত এক পরিবারের বসতবাড়ি — এখন আকাশছোঁয়া আশ্রয়

Bangladailypost.com – ঘর র ম ল ম ল ড - মঙ্গলবার ভোরের আলোয় দক্ষিণ ভেঙ্গুরা গ্রামের এক বসতবাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছিল টিনের খণ্ড, ভাঙা আসবাবের টুকরো আর ভেজা কাপড়ের গুচ্ছ। কিছু মালামাল ভাসছিল বাড়ির পাশেই থাকা ডোবায়। ঘরের ভেতর আর কিছুই ছিল না যা স্বাভাবিক জীবনের সূচক। এই দৃশ্যের মালিক ৬৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী আতাউর রহমান আগা, যিনি সকালে নিজের সার-কীটনাশক দোকানে বসে আছেন ধর্মকুমা বাজারে। ফোনে খবর পৌঁছায় — বাড়িতে হামলা চলছে, গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, সব ভাঙচুর। দ্রুত ছুটে গিয়ে তিনি দেখেন ভাষায় বর্ণনা করা অসম্ভব এক বিপর্যয়ের চিত্র।

ঘটনার ধারা ও অভিযোগের মূল বক্তব্য

আতাউর রহমান আগা মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইসলামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, ভোর পৌনে আটটার দিকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমে সীমানায় থাকা ১০ থেকে ১২টি আম ও কাঁঠালের গাছ কেটে ফেলা হয়। এরপর বসতঘর ও রান্নাঘরে ভাঙচুর শুরু হয়। স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবাদে এগিয়ে এলে তাদেরও ধাওয়া করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। হামলাকারীরা একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে খাট, চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাব টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে রাস্তার পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। একই সঙ্গে একটি ড্রয়ারের তালা ভেঙে ব্যবসার চার লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

ক্ষতির হিসাব দেখলে চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বসতঘর, রান্নাঘর, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রাথমিক মূল্যায়নে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি ধরা পড়েছে। কেটে ফেলা গাছগুলোর জন্য আরও প্রায় 10 হাজার টাকার ক্ষতি আনুমানিক। এই মুহূর্তে ভুক্তভোগী পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে — কোনো চারদিকে বেড়া, কোনো ছায়া নেই।

অভিযুক্তদের পরিচয় ও জমি-বিরোধের পটভূমি

লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে দক্ষিণ ভেঙ্গুরা গ্রামের মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন, মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম, এরশাদ, মিজান ও জিনা, মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে দুলাল, সাইফুল ইসলামের স্ত্রী আফরোজা বেগম, এরশাদের স্ত্রী তানিয়া বেগম এবং কাচিহারা আলাইপাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দক্ষিণ ভেঙ্গুরা গ্রামে একই বংশের কয়েকজনের সঙ্গে আতাউর রহমানের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জাঙ্গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধমকি দেওয়া হলেও মঙ্গলবার সকালে পরিস্থিতি সংঘর্ষমুখী হয়ে ওঠে। অভিযোগকারীর দাবি, জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই প্রতিপক্ষের লোকজন এই ঘটনা ঘটিয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

পরিবারের মুখ

আমি বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আসবাবপত্র ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। নগদ টাকাও নেই। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

এই বক্তব্য দেন আতাউর রহমান আগা। একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী হিসেবে যিনি প্রতিদিন সকালে বাজারের দোকানে বসে থাকেন, তার জীবনের নিরাপত্তার ভিত্তি এক ভোরেই ভেঙে পড়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে সার-কীটনাশক ব্যবসা একটি পরিবারের মূল আয়-সংস্থান; এই ব্যবসার চার লাখ টাকা উত্তোলন মানে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং একজন বয়স্ক মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার ভিত্তি কেড়ে নেওয়া।

পুলিশের অবস্থান

এ ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বক্তব্য দেন ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।

গ্রামীণ জমি-বিরোধ: পুনরাবৃত্তিমূলক সংকট

বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে জাঙ্গা-জমি নিয়ে একই বংশের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ একটি পুনরাবৃত্তিমূলক সমস্যা। ভূমি-সীমানা অস্পষ্টতা, উত্তরাধিকার-সম্পর্কিত বিভ্রান্তি এবং স্থানীয় ক্ষমতা-গতিশীলতার সংমিশ্রণে এই বিরোধ প্রায়ই সহিংস রূপ নেয়। হুমকি-ধমকির পরপরই পূর্ণাঙ্গ হামলা, গাছ কাটা, বসতবাড়ি ভাঙচুর — এই ধারার পুনরাবৃত্তি গ্রামীণ নিরাপত্তার একটি গভীর চিহ্ন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হলো শুধু ঘটনার পর তদন্ত নয়, বরং বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিতে কার্যকর ভূমিকা রাখা। আতাউর রহমান আগার পরিবারের ক্ষেত্রে এখন প্রশ্ন হলো: খোলা আকাশের নিচে কাটাচ্ছা এই দিনগুলোর পরে কি তারা আবার নিজের ছায়ায় ফিরতে পারবে, নাকি জমি-বিরোধের ছায়া তাদের জীবন থেকে চিরতরে মুছে যাবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ঘর র ম ল ম ল ড?

ঘর র ম ল ম ল ড is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঘর র ম ল ম ল ড matter?

ঘর র ম ল ম ল ড matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.