Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

গাছে উঠে অনলাইন হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক, ছবি ভাইরাল

Published June 16, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Karen Wilson - bangladailypost.com

Foto : Karen Wilson - bangladailypost.com

প্রধান শিক্ষক গাছে উঠে অনলাইন হাজিরা দিলেন

Bangladailypost.com – গ ছ উঠ অনল ইন হ জ - রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার এক প্রধান শিক্ষক নতুন নির্দেশনার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনলাইনে হাজিরা পাঠাতে বাধ্য হয়েছিলেন। তিনি বিদ্যালয়ের ছাদে উঠে মোবাইল নেটওয়ার্ক খুঁজতে ব্যর্থ হওয়ার পর পাহাড়ের চূড়ায় যাওয়া ও আমগাছে উঠে অনলাইন হাজিরা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ঘটনাটি উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছিল।

অনলাইন হাজিরা নিয়ে নতুন কার্যক্রম

গত সোমবার (১৫ জুন) থেকে চালু হওয়া নির্দেশনার প্রথম দিনে শিক্ষকদের প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে অনলাইনে হাজিরা পাঠাতে হবে। শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা খাতার ছবি পাঠাতে হবে যাতে শিক্ষা কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, তাঁর বিদ্যালয়টি দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত। বিদ্যালয়ের ছাদে উঠেও কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। পরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে বিভিন্ন স্থানে চেষ্টা করেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আমগাছের ডালে বসে তথ্য পাঠাতে হয়েছিল।

“অনেক কষ্টে গাছের ডালে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়ে হাজিরা খাতার ছবি পাঠাতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু কিছুটা দেরি হওয়ায় আমাকে ধমকও শুনতে হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, পেটের দায়ে চাকরি করেন। চাকরি বাঁচাতে হলে ঝুঁকি নিতে হয়। চাকরি না থাকলে পরিবারের চারজনের ভরণপোষণ কিভাবে চলবে তা তিনি স্পষ্ট করে বলেন।

হাজিরা পাওয়া সংখ্যা ও সমস্যা

রাঙ্গামাটি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৫৩৮টি স্কুলে শিক্ষকদের হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ১৭০টি স্কুলে মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তাদের তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা বলেন, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ে হাজিরা পেয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ে ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

রাঙ্গামাটি জেলার অনেক জায়গায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। সোমবার থেকে চালু হওয়া নির্দেশনার কারণে পাহাড়ি এলাকার শিক্ষকরা অনলাইন হাজিরা দিতে বাধ্য হয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন জানান, আপাতত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা এলাকা থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যে স্থানগুলো এসএমএসে সম্ভব, সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি এলাকাগুলোর তালিকা ঢাকায় পাঠানো হবে।

পাহাড়ি এলাকার সমস্যা সম্পর্কে মত ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা সমিতির সভাপতি