Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

‘আমাকে হাজতে ভরেন, আমি আরিশাকে পানিতে চুবিয়ে মেরেছি’

Published June 21, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Richard Moore - bangladailypost.com

Foto : Richard Moore - bangladailypost.com

‘আমাকে হাজতে ভরুন, আমি আরিশাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে মেরেছি’

কালীগঞ্জ থানায় হত্যার কথা স্বীকার করেছে কিশোরী

Bangladailypost.com – আম ক হ জত ভর ন আম - গাজীপুরের কালীগঞ্জে দুই বছর বয়সী শিশুকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কিশোরী নিজে থানায় গিয়ে হত্যার কার্যকলাপ স্বীকার করেছে। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় এসে সে জোনাকি ডিউটি অফিসারকে বলে, আরিশাকে পানিতে চুবিয়ে মেরেছে এবং আমাকে হাজতে ভরুন দাবি করেছে।

হত্যার পরিস্থিতি ও পরিচয়

অভিযুক্ত কিশোরী কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়া এলাকার রাজপাড়া গ্রামে বাস করেন। সে একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিশোরী আরিশার মা থেকে কোনো শত্রুতা ছিল না। তার মা শিশুটিকে বেশি আদর করতেন এবং বিস্কুট চাইতেন বলে তার স্বীকার করেছে কিশোরী।

‘আমি ঘরের ভেতরে ছিলাম। বাইরে এসে দেখি আরিশা টিউবওয়েলের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে একটি খালি বালতি ছিল। পরে বালতিটি পানি দিয়ে ভরে তাকে পা ধরে উল্টো করে প্রায় পাঁচ মিনিট পানিতে চুবিয়ে রাখি।’

নিহত আরিশার পরিচয়

নিহত আরিশা আক্তার (২) রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবা-মা কালীগঞ্জে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঘটনার সময় তার মা স্বামীর চাকরি নিয়ে আলোচনা করছিলেন বলে জানা গেছে।

‘আমরা ভেবেছিলাম মেয়েটি হয়তো গোসল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।’

মৃত্যু প্রমাণ ও তদন্ত

আরিশার মা বলেন, তিনি আরিশাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। টিউবওয়েলের পাশে বালতির মধ্যে শিশুটিকে দেখে তিনি দ্রুত উদ্ধার করেন। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘আমি কিছু সময়ের জন্য কারখানায় গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমার মেয়ে ও বাড়িওয়ালার মেয়ে খেলছে। সে আমার মেয়েকে টোস্ট বিস্কুটও খেতে দিয়েছিল।’

কর্মকর্তার বিবরণ

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. ইমরান হোসেন জানান, দুপুর ১টার দিকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। কর্মকর্তৃপক্ষ পুলিশকে সত্যায়ন করে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।