জাজিরা এসআইয়ের ১০ হাজার টাকার ঘুস দাবি, ভিডিও ভাইরাল
Bangladailypost.com – অড ও ভ ইর ল অভ য – শেরপুরের জাজিরা থানায় তদন্তের নামে অর্থ দাবির একটি অড ও ভ ইর ল অভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী এক নারীর নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পুলিশ সদস্যের ফোনে হওয়া কথোপকথনের ১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। কথোপকথনে ওই কর্মকর্তা নিজের বিকাশ নম্বর উল্লেখ করে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার সুষ্ঠু বিচারের দাবি তুলেছেন।
পারিবারিক নির্যাতনের পটভূমি
জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মালেক শেখের কন্যা ইতি আক্তার প্রায় তিন বছর আগে জাজিরা পৌরসভার সোনার দেউল এলাকার নুর মোহাম্মদ শেখের ছেলে সাত্তার শেখের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা যৌতুক দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার করতেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় সালিশে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা হলেও কোনো ফল মেলেনি। অবশেষে ১৭ আগস্ট রাতে পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করে বাসাবাড়ি থেকে বের করে দেন।
ঘটনার পর ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ইতি আক্তার স্বামী সাজ্জাদ শেখসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পারিবারিক বিরোধ, শারীরিক নির্যাতন ও যৌতুক দাবির লিখিত অভিযোগ জাজিরা থানায় দায়ের করেন। থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব এসআই রফিকুল ইসলামকে অর্পণ করে।
তদন্তের নামে অর্থ দাবির ভিডিও
তদন্তের অংশ হিসেবে বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের সময় এসআই রফিকুল ইসলাম ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ওই নারীর সৌদি আরব প্রবাসী নিকটাত্মীয় দুলাল মোল্লার সঙ্গে রফিকুল ইসলামের ফোনে আলাপ হয়। সেই কথোপকথনে টাকা পাঠানোর জন্য পুলিশ সদস্য তার বিকাশ নম্বর উল্লেখ করেন। এই অড ও ভ ইর ল অভ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দুলাল মোল্লা খরচের পরিমাণ জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘১০ এর মতো দিযা দেন।’ দুলাল মোল্লা নিশ্চিত করতে চাইলে পুলিশ সদস্য তা স্বীকার করেন। বিকাশ নম্বর চাইলে ফোন নম্বরটি দেওয়া হয়। দুলাল মোল্লা আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘একটু কম দেই? ১০ হাজার টাকা বেশি হইযা যায না?’ উত্তরে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ধইরা আনতে, মিটমাট করতে আমাগো খরচ আছে না?’ দুলাল মোল্লা প্রশ্ন করেন, ‘ধইরা আনার দায়িত্ব তো আপনাগোই। আপনি কি সেকেন্ড অফিসার নাকি এসআই?’ রফিকুল ইসলাম উত্তর দেন, ‘এসআই, উপপরিদর্শক।’ এরপর টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কল কেটে দেন দুলাল মোল্লা।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য ও কর্তৃপক্ষের অবস্থান
ইতি আক্তার বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালাতো। কয়েকদিন আগে তারা আমাকে মারধর করলে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করি। তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় এসআই রফিকুল স্যারকে। তিনি টাকা চাইলে আমি বলি, আমার এক ভাই প্রবাসে থাকেন, তিনি টাকা দেবেন। পরে তার সঙ্গে কথা বলে বিকাশ নম্বর দেন। টাকা না দেয়ার কারণে আমাদের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না, তদন্তও ঠিকভাবে করছে না। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
ভুক্তভোগীর মা খাদিজা বেগমও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, পুলিশকে টাকা না দেওয়ায় মেয়ের মামলার কোনো সমাধান করা হয়নি এবং থানায় গেলেও তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
অভিযুক্ত এসআই রফিকুল ইসলাম মুখোমুখি হলে টাকা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে ওসি জানেন বলে বক্তব্য না দিয়ে নিজ কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান। জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মেদও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে শেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকারিয়া রহমান তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এটি খতিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সাধারণ জিজ্ঞাসা
এই ঘটনায় তদন্ত কার দায়িত্বে? জাজিরা থানার এসআই রফিকুল ইসলামকে মূল অভিযোগের তদন্তে নিযুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে শেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকারিয়া রহমান বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
ভিডিওতে কী দেখানো হয়েছে? ভিডিওতে ভুক্তভোগীর নিকটাত্মীয় দুলাল মোল্লার সঙ্গে এসআই রফিকুল ইসলামের ফোনে হওয়া ১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের কথোপকথন দেখানো হয়েছে, যেখানে ১০ হাজার টাকার অর্থ দাবি ও বিকাশ নম্বর দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে।
ভুক্তভোগী এখন কী পাবেন? জেলা পুলিশ সত্যতা নিশ্চিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ভুক্তভোগী সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দ
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is অড ও ভ ইর ল অভ য?
অড ও ভ ইর ল অভ য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does অড ও ভ ইর ল অভ য matter?
অড ও ভ ইর ল অভ য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

