বেরোবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২৯ অনিয়মের অভিযোগ, বরাদ্দ কমলো ১৩ কোটি টাকা
বেরোবির নীট বরাদ্দে এক বছরে ১৩ কোটি টাকার কমে, ইউজিসির ২৯টি অনিয়মের তালিকা
Bangladailypost.com – ব র ব প রশ সন র - রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নীট বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ কোটি টাকা কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখের পরিপত্রে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মোট বরাদ্দ ছিল ৯৬ কোটি ৪৩ লাখ ৩ হাজার টাকা, যার মধ্যে নীট বরাদ্দ ৮৮ কোটি ৪৩ লাখ ৩ হাজার টাকা। কিন্তু পরবর্তী অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট অনুদান ধরা হয়েছে মাত্র ৮২ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং নীট বরাদ্দ ৭৪ কোটি ৯২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে নীট বরাদ্দে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বাজেট কাটার পেছনে ২৯টি অনিয়ম
এই বরাদ্দ কমানোর মূল কারণ হিসেবে কমিশন চিহ্নিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক ২৯টি অনিয়ম। গত বছরের ১৬ ও ১৭ নভেম্বর ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করে এসব অনিয়ম শনাক্ত করে। কমিশন বারবার এই অনিয়মগুলো সংশোধনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে, তবুও কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে পরিপত্রে উল্লেখ আছে।
চিহ্নিত অনিয়মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে নিয়োগ, পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন নিয়ে। বাংলা বিভাগে একটি প্রভাষক পদের বিপরীতে দুজনকে একযোগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রতি বছর প্রায় ২.৭৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। কমিশন ও মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অ্যাডহক ও অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত রাখা হয়েছে।
পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন ক্ষেত্রেও গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে। কমিশনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সেই মাধ্যমে ২৫ জনকে পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে আবার ১৫ জনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রথম শ্রেণিতে আপগ্রেড করা হয়েছে। একইভাবে অর্গানোগ্রামের বাইরের পদে ২৮৯ জন কর্মচারীকে আপগ্রেডেশন দেওয়ার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও লোক প্রশাসন বিভাগে চাহিদাকৃত সিজিপিএ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার সত্ত্বেও সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা কমিশনের তীব্র আপত্তির কারণ।
আর্থিক অনিয়মে কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি
বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দলের রিপোর্টে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির তথ্যও রয়েছে। ক্যারিয়ার ফিট হিসেবে বাবিধা কর্তন না করার ফলে ৭৫.২০ লাখ টাকা, অসমন্বিত অগ্রিম বাবদ ১৩১.৯৬ লাখ টাকা, বিধিবহির্ভূত ইনক্রিমেন্ট বাবদ 6.৭২ লাখ টাকা এবং সরকারি হারের অতিরিক্ত দায়িত্বভাতা বাবদ ৯.৮৭ লাখ টাকা রাজস্ব ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে।
এছাড়া শিক্ষা ছুটির বিপরীতে অননুমোদিত নিয়োগ, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ফি বাবদ ৬.৯৭ লাখ টাকা নিয়মবহির্ভূত আদায়, অডিট আপত্তিকৃত অর্থ কেটে না আনুতোষিক প্রদান এবং অনুমোদন ছাড়াই খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়েও কমিশন আপত্তি জানিয়েছে। খণ্ডকালীন শিক্ষকদের সম্মানীর হার কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই ১৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা, বোর্ডিং পাস সংযুক্ত না করেই বিমান ভ্রমণ বিল উত্তোলন এবং অনুমোদিত চাকরি বিধিমালা না থাকার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউজিসির সতর্কতা ও দায়িত্বের প্রশ্ন
পরিপত্রে কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ ও আপগ্রেডেশনের জন্য দেওয়া অর্থ আদায় করে কমিশনকে অবহিত না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট খাতে বাজেট বরাদ্দ রাখা হবে না। এসব অনিয়মের কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংশ্লেষের দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে — ইউজিসি এই দায়ভার নেবে না।
চিহ্নিত অনিয়মগুলো নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষকে প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন। ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে চাহিদা ও বরাদ্দের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইউজিসি।
উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া
এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন,
এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।
এরপর ইউজিসিকে জিজ্ঞেসসংযোগে কথা বলতে বলায় তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
— আজিজুর রহমান/এনএইচআর/এএসএম
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ব র ব প রশ সন র?ব র ব প রশ সন র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ব র ব প রশ সন র matter?ব র ব প রশ সন র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.