‘নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে যত্নমূলক কাজের গুরুত্ব স্বীকার করতে হবে’
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে যত্নমূলক কাজের স্বীকৃতির আহ্বান
Bangladailypost.com – ন র র অর থন ত ক - নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে গৃহস্থালি ও পরিবারের সদস্যদের যত্ন নেওয়ার মতো কাজের গুরুত্ব রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে স্বীকার করতে হবে বলে মত দিয়েছেন বক্তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘কেয়ার ইকোনমি অ্যান্ড দ্য লেবার মার্কেট: রিথিংকিং উইমেনস ইকোনমিক এজেন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তারা বলেন, অবৈতনিক যত্নমূলক কাজের বড় অংশ এখনো নারীদের ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর পূর্ণ অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাবির সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. সানজীদা আখতারের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় বক্তব্য দেন ঢাবির সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহীন আনাম এবং উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক। বক্তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, দৃশ্যমান আয়ের বাইরে নারীদের প্রতিদিনের শ্রমও অর্থনীতি ও সমাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অবৈতনিক যত্নের কাজ কেন অর্থনৈতিক আলোচনায় জরুরি
পরিবারের শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা অন্য সদস্যদের দেখাশোনা, রান্না, পরিচ্ছন্নতা ও দৈনন্দিন গৃহস্থালি ব্যবস্থাপনার মতো কাজ সাধারণত পারিশ্রমিকহীন। অথচ এসব কাজের কারণে পরিবারের অন্য সদস্যরা শিক্ষা, চাকরি ও অন্যান্য উৎপাদনশীল কাজে সময় দিতে পারেন। বক্তাদের মতে, এই শ্রমকে অদৃশ্য হিসেবে দেখলে নারীর বাস্তব কাজের চাপ এবং অর্থনীতিতে তার অবদান যথাযথভাবে বোঝা সম্ভব হয় না।
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন কেবল চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে নিজের আয় নিয়ন্ত্রণ, কাজের সুযোগ বেছে নেওয়া, নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাওয়া এবং পারিবারিক ও সামাজিক সিদ্ধান্তে অংশ নেওয়ার বিষয়ও জড়িত। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের যত্নমূলক দায়িত্ব নারীর শ্রমবাজারে প্রবেশ, চাকরিতে টিকে থাকা এবং দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগকে সীমিত করতে পারে। ফলে নারীর কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর এই দায়িত্বের প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সমন্বিত নীতিমালার প্রয়োজন
বক্তারা বলেন, যত্নমূলক কাজের গুরুত্ব স্বীকার করে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। পরিবারে যত্নের দায়িত্ব ভাগাভাগি, কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন—এসব ক্ষেত্র একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো একটি উদ্যোগ একা নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের সব বাধা দূর করতে পারবে না; প্রয়োজন সামগ্রিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন।
এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নীতি, কর্মক্ষেত্রের ব্যবস্থা এবং পরিবারের আচরণ একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের ওপর যত্নের কাজের অসম চাপ কমাতে পারলে তারা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আয়মূলক কাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অবস্থান শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পথও প্রসারিত হবে।
আলোচনায় উঠে আসে, নারীর শ্রমকে শুধু আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থানের হিসাব দিয়ে মূল্যায়ন করলে পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। গৃহ ও পরিবারের ভেতরে সম্পাদিত কাজের সামাজিক প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়া দরকার। এ স্বীকৃতি নারীর কাজকে সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি নীতি প্রণয়নে বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে সহায়তা করবে।
প্রশ্নোত্তর: যত্নমূলক কাজ ও নারীর অংশগ্রহণ
যত্নমূলক কাজ বলতে কী বোঝায়?
পরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন দেখাশোনা, শিশু ও বয়স্কদের পরিচর্যা, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা এবং গৃহস্থালি ব্যবস্থাপনার মতো কাজকে যত্নমূলক কাজ বলা হয়। এসব কাজের বড় অংশ পারিশ্রমিক ছাড়া সম্পন্ন হয়।
এ কাজের সঙ্গে নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের সম্পর্ক কী?
যখন নারীর সময়ের বড় অংশ অবৈতনিক যত্নের কাজে ব্যয় হয়, তখন তার শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, চাকরি বা আয়মূলক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে। তাই যত্নের দায়িত্বের ন্যায্য বণ্টন নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
কেন এ বিষয়ে নীতিমালা প্রয়োজন?
নীতিমালার মাধ্যমে যত্নমূলক কাজের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া, কর্মক্ষেত্র ও সমাজে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা এবং নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের পথে থাকা বাধাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব। বক্তাদের মতে, নারী ও অর্থনীতির সম্পর্ককে আরও ন্যায্যভাবে দেখার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ন র র অর থন ত ক?ন র র অর থন ত ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ন র র অর থন ত ক matter?ন র র অর থন ত ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.