Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ঢাবি শিক্ষকদের মূল্যায়ন করবেন শিক্ষার্থীরা, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু

Published September 9, 2026 · Updated September 9, 2026 · By Richard Moore - bangladailypost.com

Foto : Richard Moore - bangladailypost.com

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ: অনলাইন মূল্যায়ন প্ল্যাটফর্মের নতুন অধ্যায়

Bangladailypost.com – ঢ ব শ ক ষকদ র ম - বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা কেবল পাঠ্যক্রমের সীমায় আটকে থাকা উচিত নয় — এমন দৃষ্টিভঙ্গির প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সম্প্রতি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের কার্যকলাপ মূল্যায়ন করতে পারবেন। প্ল্যাটফর্মটির নাম duevaluation.com। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে বহু বছরের পুরোনো একটি দাবি — শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা ও পাঠদান মান সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সরাসরি মতামত সংগ্রহের ব্যবস্থা।

প্ল্যাটফর্মের কার্যপদ্ধতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চাইলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর ই-মেইলে একটি একক প্রবেশ-কোড পাঠানো হয়, যা দিয়ে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করা সম্ভব। প্রবেশের পর শিক্ষার্থী শুধুমাত্র নিজ বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন — অন্য বিভাগের শিক্ষকদের তালিকা দেখা বা মূল্যায়ন করা যাবে না।

গোপনীয়তা এই প্ল্যাটফর্মের কেন্দ্রীয় নীতি। কোনো শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষককে কী ধরনের মূল্যায়ন দিয়েছেন, তা প্রকাশ করা হবে না। তবে সামগ্রিক ফলাফল — অর্থাৎ একটি বিভাগ বা একজন শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত মতামত — প্রকাশ্যে দেখা যাবে। এই কাঠামো শিক্ষার্থীদের নিশ্চিন্তে মতামত দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে, একইসঙ্গে শিক্ষকদের কাছেও একটি স্বচ্ছ প্রতিক্রিয়া-চক্র তৈরি করে।

কীভাবে এ উদ্যোগ জন্ম নিল

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার উদ্যোগে প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হয়েছে। তার দাবি, ডাকসু নির্বাচনের সময় শিক্ষক মূল্যায়নব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ঢাবিতে শিক্ষক মূল্যায়নব্যবস্থা চালুর বিষয়ে অতীতে বিভিন্ন নীতিমালা ও খসড়া তৈরি হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

রাফিয়া জানান, ডাকসুর কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করেন। কিন্তু প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি দীর্ঘদিন আটকে থাকায় নিজ উদ্যোগে একটি অনলাইন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি স্বীকার করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাইরে থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হওয়ায় এটিকে কেন্দ্রীয়ভাবে বাধ্যতামূলক করার সুযোগ নেই। ফলে প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা সম্পূর্ণরূপে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করবে।

Rate My Professors-এর অনুপ্রেরণা ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট

রাফিয়ার তথ্য অনুযায়ী, উদ্যোগটি মূলত আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম Rate My Professors-এর কাঠামো থেকে অনুপ্রাণিত। তবে শুধু নির্দিষ্ট কোর্স বা শিক্ষক বেছে নেওয়ার সুবিধার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের বিষয়ে সামগ্রিক ধারণা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের মূল্যায়নের সামগ্রিক ফলাফল প্রকাশ্যে থাকলে তা শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এক ধরনের জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় শিক্ষার্থী-মূল্যায়ন ব্যবস্থা একটি সুপ্রচলিত আন্তর্জাতিক অনুশীলন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি সেমিস্টারের শেষে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি, যোগাযোগ দক্ষতা এবং কোর্স পরিচালনার মান সম্পর্কে কাঠামোবদ্ধ মতামত সংগ্রহ করে। এই তথ্য পরবর্তীতে শিক্ষকদের পেশাদার বিকাশ, কোর্স নকশা পরিবর্তন এবং বিভাগীয় পরিকল্পনায় ব্যবহৃত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে এই ব্যবস্থা দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল, কিন্তু প্রশাসনিক বাধার কারণে বাস্তবায়িত হয়নি।

সীমাবদ্ধতা ও প্রশাসনিক অবস্থান

রাফিয়া স্বীকার করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এই ব্যবস্থা চালু হলে সেটিই সবচেয়ে কার্যকর হতো। কিন্তু প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি এখনো বিভিন্ন সভা ও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। তাই ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অন্তত একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা হিসেবে এই প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্ল্যাটফর্মটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত বা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত কোনো উদ্যোগ নয়। ফলে এর মূল্যায়ন পদ্ধতি, ফলাফল যাচাই এবং সংগৃহীত তথ্য ব্যবহারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো জানা যায়নি। এই অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাত্রা ও প্ল্যাটফর্মের দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতার ওপর প্রশ্ন তুলবে।

প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টি

ওয়েব অ্যাপ ব্যবহারের সময় কোনো শিক্ষার্থী সমস্যা পেলে ডাকসুর নির্ধারিত ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারবেন। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে রাফিয়া জানিয়েছেন।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। রাফিয়ার আশা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে একটি প্রকাশ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে। এই তথ্যভাণ্ডার যদি প্রশাসনিক স্বীকৃতি পায়, তবে তা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের স্বচ্ছতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় গバナণে শিক্ষার্থীর ভূমিকা সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া এই প্ল্যাটফর্মের তথ্যের বৈধতা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ঢ ব শ ক ষকদ র ম?

ঢ ব শ ক ষকদ র ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঢ ব শ ক ষকদ র ম matter?

ঢ ব শ ক ষকদ র ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.