জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে স্লোগান, ‘ভাইভা-কোটার ঠাঁই নাই’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ভাইভা-স্কোর নিয়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদ
Bangladailypost.com – জগন ন থ ব শ বব দ - বাংলাদেশের সরকারি চাকরির নিয়োগ ব্যবস্থায় মৌখিক পরীক্ষার ভূমিকা কতটা বড় হওয়া উচিত — এই প্রশ্ন নিয়ে এবার সোচ্চার হয়ে উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। সরকারের প্রস্তাবিত নিয়োগ বিধিমালা পরিবর্তন, যা ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানোর উদ্যোগ নেয়, তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের সূচনা হয়।
মিছিলের পথ ও সমাবেশ
গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও বাহাদুর শাহ পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ফিরে আসেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে তারা তাদের দাবি ও অভিযোগ স্পষ্ট করেন। মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা একের পর এক স্লোগান দেন, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধার প্রাধান্যের দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
‘ভাইভা-কোটার ঠাঁই নাই’
‘আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’
‘तদবিরের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’
‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না’
শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ
বিক্ষোভকারীদের যুক্তি হলো — লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তদবির, পক্ষপাত এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশের সরকারি চাকরির ইতিহাসে মৌখিক পরীক্ষার ওজন বাড়ানোর প্রতিটি প্রচেষ্টা তুলনামূলকভাবে বিতর্কিত হয়ে আসছে, কারণ এই ধাপে মূল্যায়ন অনেকটা বিচারকের ব্যক্তিগত বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক উভয় ধাপের নম্বরে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে এবং মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত পরিবর্তন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।
সরকারের যুক্তি ও প্রেক্ষাপট
মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টিতে, মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর বুদ্ধিমত্তা, দ্রুততর সিদ্ধান্ত-গ্রহণের ক্ষমতা এবং যোগাযোগ দক্ষতা যাচাই করা সম্ভব, যা লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে মূল্যায়ন করা যায় না। তবে শিক্ষার্থীদের মতে, এই যুক্তি ব্যবহার করে ভাইভার ওজন বাড়ালে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার পরিমাপে যে স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা থাকে, তা নষ্ট হয়ে যাবে।
প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদগুলো বাংলাদেশের প্রশাসন কাঠামোর মধ্য-উচ্চ স্তরকে নির্দেশ করে। এই স্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন সরাসরি হাজারো প্রার্থীর ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম প্রাচীন ও গণনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখান থেকে উঠে আসা এই প্রতিবাদ শুধু এক ক্যাম্পাসের অভিমত নয় — এটি দেশজুড়ে চলমান নিয়োগ-নীতি বিতর্কের একটি দৃশ্যমান অংশ। শিক্ষার্থীদের এই সক্রিয়তা দেখায় যে, মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগের দাবি এখন একাডেমিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও জোরালোভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। প্রস্তাবিত বিধিমালা পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আরও আলোচনা ও পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে কি না, তা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is জগন ন থ ব শ বব দ?জগন ন থ ব শ বব দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does জগন ন থ ব শ বব দ matter?জগন ন থ ব শ বব দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.