AMP
Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ইবিতে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

Published August 17, 2026 · Updated August 17, 2026 · By Daniel Williams - bangladailypost.com

Foto : Daniel Williams - bangladailypost.com

ইবিতে ফেসবুক পোস্ট নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলা: আওয়ামীপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর মারধর ও ভাঙচুর

Bangladailypost.com – ইব ত আওয় ম পন থ শ - শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ফেসবুকে শ্রদ্ধা জানাতে পোস্ট দেওয়াটাই হয়ে উঠলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তার জন্য বিপদের কারণ। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, টিএসসিসসি এবং আরও কয়েকটি বিভাগে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে মারধর, হেনস্তা ও সম্পত্তি নষ্টের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী দুই শিক্ষক ও তিন কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয় এবং সংশ্লিষ্টদের ক্যাম্পাসে পদার্পণ থেকে বিরত রাখার হুমকিও দেওয়া হয়।

ঘটনার ধারা

১৫ আগস্টের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা ফেসবুকে শোক পোস্ট করেন। এরপর ক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসন ভবনের সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার ইব্রাহিম হোসেন সোনার কক্ষে ঢুকে তারা তাকে হেনস্তা করে এবং কক্ষটি ভাঙচুর করেন।

এরপর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদের কাছে গিয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে টিএসসিসির সহকারী রেজিস্ট্রার বিপুল আহমেদের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করা হয় এবং টেবিল ভাঙচুর করা হয়।

হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতির কক্ষে গিয়ে সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে হুমকি দেওয়া হয়। সেখানে বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকায় ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকেও হেনস্তা করা হয় দলটির নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে।

এরপর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের কক্ষে গিয়ে তাকে হুমকি ও হেনস্তা করা হয়। টেবিল ভাঙচুরের পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিও ভাঙচুর করা হয়। এই সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্যাম্পাসে না আসার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা যায়।

নির্বাচিত অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বাতক আসাদ তৌফিক, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য রেজাউল ইসলাম রাকিব, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহরিয়ার রশিদ নিলয়, খালেদ সাইফুল্লাহ, কর্মী রাহি, সাবিক, উল্লাস মাহমুদ, নাঈম, সিজান ও সাগর আলী এবং কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বাতক মুক্তাদির আহমেদসহ প্রায় 25 জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. উম্মে সালমা লুনা বলেন, 'আমার কক্ষে এসে তারা এই ঘটনা করেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। পাশাপাশি যাওয়ার সময়ে তারা আমার কিছু শিক্ষার্থীকেও মারধর করেছে। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।'

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদ বলেন, 'দুপুরের সময় আমি অফিসে বসে ছিলাম। তারা হঠাৎ এসে বলে— তুই মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোক জানিয়ে পোস্ট দিছিস কেন? তুই আর এখন থেকে ক্যাম্পাসে আসবি না। এরপর তারা আমার দিকে একটি প্লেট ছুড়ে মারে এবং মারতে উদ্যত হয়। পরে হুমকি-ধমকি শেষে তারা চলে যায়।'

অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ বিষয়ে ভালো জানেন। তার সাথে কথা বলেন।'

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে উত্তর

শাখা ছাত্রদলের আহ্বাতক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, 'গতকাল ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগকে নিয়ে পোস্ট করে শান্ত ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তা রুখে দিতে ছাত্রদল সবসময়ই প্রস্তুত আছে। যেগুলো আমাদের নজরে এসেছে, আমরা সেগুলোর বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।'

তিনি আরও বলেন, 'ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে প্রয়োজনে আমরা আইন হাতে তুলে নেব। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয় তবে আমাদেরই আইন হাতে তুলে নিতে হবে।'

প্রশাসনের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, 'আমরা বিষয়টি নিয়ে মিটিং করছি। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, 'সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে ডেকে কথা বলেছি। তারা বিষয়টিতে ভুল স্বীকার করেছে। আমি আশা করছি, তারা ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য আইন রয়েছে। কেউ আইন লঙ্ঘন করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। কোনো ব্যক্তি বা ছাত্রসংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তার ওপর চাও হতে পারে না।'

তিনি আরও বলেন, 'ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে কেউ পোস্ট দিচ্ছে থাকলে এবং তা প্রমাণিত হলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ইব ত আওয় ম পন থ শ?

ইব ত আওয় ম পন থ শ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ইব ত আওয় ম পন থ শ matter?

ইব ত আওয় ম পন থ শ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.