Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

রম্যগল্প / পুরুষের আফসোস: বাসায় থাকার চেয়ে অফিসে যাওয়াই ভালো

Published September 4, 2026 · Updated September 4, 2026 · By Joseph Hernandez - bangladailypost.com

Foto : Joseph Hernandez - bangladailypost.com

ছুটির দিনের পরিকল্পনা আর বাস্তবতার টাকার হিসাব

Bangladailypost.com – রম যগল প প র ষ র - বৃষ্টির দিনে ঘুমের স্বপ্ন দেখা কোনো নতুন ব্যাপার নয়। তবে একজন পুরুষের জীবনে যেদিন সকাল থেকেই আকাশ কালো হয়ে যায়, সেদিনের মস্তিষ্ক একটা নির্দিষ্ট সূচি তৈরি করে — ঘুম, আর ঘুম, আর ঘুম। ক্ষুধা লাগলে একটু খাওয়া, তারপর আবার চোখ বন্ধ। এমন নিখুঁত পরিকল্পনা একজন মানুষের জীবনে হয়তো একবারও আসে না। কিন্তু কবিতার সেই পুরনো সত্যটা বারবার সত্যি হয়: যা চাওয়া, তা পাওয়া যায় না।

সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই এই পুরো দিনের "কর্মসূচি" ঘুম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘোষণাটা বাতিল হয়ে গেল। কারণ ঘরে চাল ছাড়া কিছুই নেই। জানালার বাইরে তাকিয়ে বৃষ্টি দেখে একটা যৌক্তিক প্রশ্ন তোলা হয়েছিল — এই বৃষ্টিতে কি কোনো দোকান খোলা থাকবে? উত্তরটা এলো নির্ভীক:

না থাকলে না খেয়েই থাকবে।

একটা করুণ সুরে "অন্য কোনো অপশন আছে?" জিজ্ঞাসা করা হলো। উত্তরটা ছিল গণতান্ত্রিক আড়ালে লুকানো একনায়কতান্ত্রিক নির্দেশ — বাজারে যাও, অথবা না খেয়ে থাকো। চয়েস ইজ ইয়োরস।

বাজারের ভিড় আর ব্যাগের ওজন

ছাতা হাতে বেরিয়ে একটা আশা নিয়েছিল — বৃষ্টির দিনে বাজারে ভিড় কম হবে। ঢুকেই আশাটা ভেঙে গেল। দেশের বাকি মানুষও সম্ভবত একই যুক্তি নিয়ে বেরিয়েছে। একজনের ছাতার পানি ঘাড়ে পড়ছে, আরেকজনের ব্যাগ হাঁটুতে ধাক্কা দিচ্ছে। মাছওয়ালা ইলিশ ধরিয়ে দিল এমন ভঙ্গিতে, যেন না কিনলে মাছটার আত্মসম্মানেই আঘাত লাগবে। সবজিওয়ালা লাউ হাতে দিয়ে তাকিয়ে রইলো এমনভাবে, মনে হলো লাউটার ভবিষ্যৎ এখন একমাত্র এই হাতের ওপর নির্ভরশীল।

বাজার শেষে ব্যাগের ওজন দেখে মনে হলো, একজন মানুষ বাজার করে ফিরছে না — পুরো মহল্লার রেশন নিয়ে ফিরছে। ছাতাটাও যথাসাধ্য চেষ্টা করছিল বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর নয়, বৃষ্টিটাকে শরীরের সব জায়গায় সমানভাবে পৌঁছে দেওয়ার।

রাজকীয় প্লেট আর দশ মিনিটের নোটিশ

তবু মন ভালো ছিল। কারণ এবার শুধু ঘুম আর ঘুম। বাড়ি ফিরে গরম ভাত, ইলিশ ভাজা, লাউ-চিংড়ি আর মুগডাল — এমন এক প্লেট সামনে এলো যে মনে হলো পৃথিবীর সব সুখ এক প্লেটেই পরিবেশন করা হয়েছে। খাওয়া শেষ। এবার বিছানায় যাব। ঠিক তখনই —

দশ মিনিটের মধ্যে বের হতে হবে।

চোখ বড় বড় করে "কোথায়?" জিজ্ঞাসা করা হলো। উত্তরটা এলো একটা ভাউচারের গল্প। গত সপ্তাহে কেনাকাটার সময় জিতেছিলাম একটা ভাউচার। আজই শেষ দিন। পঞ্চাশ শতাংশ ডিসকাউন্ট। কী কিনবে? ওভেন আর এয়ার ফ্রায়ার। ছয়-সাত হাজার টাকা বাঁচবে। তারপর একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে যোগ করা হলো — আর দুইটা সারপ্রাইজও আছে।

টাকা বাঁচবে আর সারপ্রাইজ — এই দুই শব্দের ফাঁদে পড়ে কত পুরুষ ঘর থেকে বেরিয়েছে, তার কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। আমিও সেই পরিসংখ্যানে নিজের নাম লিখিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।

বোর্ডের সামনে ভাগ্যের পরিহাস

দোকানে গিয়ে দেখি বড় বড় অক্ষরে লেখা — দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অফার সাময়িকভাবে স্থগিত। বোর্ডটার দিকে তাকিয়ে মনে হলো, ভাগ্য আজ ব্যক্তিগতভাবে আমাকে নিয়ে বিনোদনের আয়োজন করেছে। বউ নির্বিকার। তারপর বললো, যেহেতু এসেই গেছি, চলো। প্রথম সারপ্রাইজ।

বান্ধবীর বাসায় মাথা নাড়ার কলা

সোজা তার বান্ধবীর বাসা। নাস্তা খাওয়া শেষ হতেই শুরু হলো দুই বান্ধবীর জীবনের সমস্যা ও সমাধান বিষয়ক মুক্ত আলোচনা। সেখানে আমার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — চুপচাপ বসে প্রয়োজনমতো মাথা নাড়া। একবার ভুল করে ভিন্নমত দিয়েছিলাম। তারপর বুঝলাম, সংসারে অনেক সময় যুক্তির চেয়ে ঘাড় নাড়ার দাম বেশি।

সেমিনারের প্রথম সারি

সন্ধ্যায় বউ বললো, এবার দ্বিতীয় সারপ্রাইজ। আমাকে নিয়ে হাজির হলো একটি সেমিনারে। বিষয় — নারীর উন্নয়নে পুরুষের সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা ও অন্যান্য। আর ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! আমাকে বসানো হলো একেবারে প্রথম সারিতে। মনে হচ্ছিল, আমি শ্রোতা নই; প্রদর্শনীর নমুনা।

প্রথম বক্তা বললেন, পুরুষেরা নিজের ভুল স্বীকার করে না। প্রতিবাদ করতে গিয়েও থেমে গেলাম। দ্বিতীয় বক্তা বললেন, পুরুষেরা সংসারের কাজে অংশ নেয় না। আমার কাদামাখা স্যান্ডেল তখনও শুকায়নি। কিন্তু সেটা দেখানোর সাহসও হলো না। কারণ ঠিক পাশেই বসেছিল আমার স্ত্রী। তৃতীয় বক্তা বললেন, পুরুষদের বদলাতে হবে। মনে হলো, আমি বুঝি ভুল করে সেমিনারে নয়, নিজের বিরুদ্ধে চার্জশিট পাঠের অনুষ্ঠানে চলে এসেছি।

এরপর থেকে প্রতিটি বক্তৃতায় এমনভাবে মাথা নাড়ছিলাম, যেন জন্মের পর থেকে যত ভুল করেছি, সব আজই স্বীকার করছি। ওই মুহূর্তে সত্যের চেয়ে নিরাপত্তাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

রাত সাড়ে দশটা আর একটা প্রার্থনা

রাত সাড়ে দশটায় বাসায় ফিরলাম। সকাল থেকে যে ঘুমটার পেছনে দৌড়াচ্ছিলাম, সে ততক্ষণে আমাকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেছে। বিছানায় শুয়ে জানালার কাঁচে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে শুধু একটা প্রার্থনা করলাম —

হে সৃষ্টিকর্তা, আগামীবার ছুটির দিনে বৃষ্টি দিও, কিন্তু কোনো ভাউচার দিও না।

শুধু মনে হলো, অফিসে যাওয়াই ভালো ছিল। তারপর কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম, টেরই পেলাম না। সেদিন ভাউচারে কোনো ছাড় পাইনি। কিন্তু রাতের সেই ঘুমটাই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ডিসকাউন্ট।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is রম যগল প প র ষ র?

রম যগল প প র ষ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does রম যগল প প র ষ র matter?

রম যগল প প র ষ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.