Agriculture And Nature

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে প্রকৃতিপাঠ পাঠশালার বন্যপ্রাণের গল্পকথা

og_1784979854_6a64a18e26ab8

প্রকৃতির সাথে পরিচয়: মিরপুর উদ্যানে বন্যপ্রাণী ক্যাম্প

Bangladailypost.com – জ ত য় উদ ভ দ উদ – ডিজিটাল ডিভাইসের পর্দার দিকে ঝুঁকে থাকা শিশুদের প্রকৃতির দিকে ফিরিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্যেই প্রকৃতিপাঠ পাঠশালার পক্ষ থেকে ‘বন্যপ্রাণের গল্পকথা’ নামে একটি ন্যাচার ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। আগামী প্রজন্মকে বন্যপ্রাণী ও পাখির সাথে পরিচিত করানোর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি ২৪ জুলাই রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে পাঁচ থেকে পনেরো বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। অভিভাবকরাও এতে যোগ দেন।

সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ও শিক্ষা

আয়োজনের শুরুতেই শিশুরা বিভিন্ন আনন্দদায়ক কার্যক্রমের মাধ্যমে একে অপরের সাথে পরিচয় গড়ে তোলে। এরপর বোটানিক্যাল গার্ডেনের সবুজ পরিবেশে ঘুরে ঘুরে তারা পাখি ও বন্যপ্রাণীর সাথে পরিচিত হয়। শিক্ষার্থীরা নোটপ্যাডে পাখির ছবি আঁকে, নাম ও বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ করে। সরাসরি দেখে ছবি আঁকার মতো সৃজনশীল কাজেও তারা দারুণ আনন্দ পায়।

গল্প, পর্যবেক্ষণ ও হাতেকলমে শেখার নানা কাজের মাধ্যমে মেন্টররা শিশুদের সামনে বন্যপ্রাণী, গাছপালা, ফুল ও পাতার বিভিন্ন দিক সহজে তুলে ধরেন। তিন ঘণ্টাব্যাপী ক্যাম্প শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

মেন্টরদের মতামত

ক্যাম্পে শিশুদের বন্যপ্রাণীবিষয়ক পাঠ দিতে মেন্টর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট, পাখিবিদ এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেন,

এখানে এসে শিশুদের সাথে দারুণ সময় কেটেছে। তারা বেশ আনন্দের সাথে খেলার ছলে পাখি ও বন্যপ্রাণীর সাথে পরিচিত হতে পেরেছে। আশা করি ‘প্রকৃতিপাঠ পাঠশালা’ তাদের এই চমৎকার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চালু রাখবে।

প্রকৃতিবিষয়ক পাঠ দিতে মেন্টর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের সাবেক প্রধান বোটানিস্ট শামসুল হক, উদ্ভিদবিদ ও স্থপতি তুঘলক আজাদ মিঠু এবং শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষক খাদিজা বাপ্পী।

অভিভাবক ও উদ্যোক্তাদের কথা

অভিভাবকরা এমন আয়োজন নিয়মিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিশুদের মানসিক বিকাশ, পরিবেশ সচেতনতা এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ প্রকৃতিপাঠ পাঠশালার উদ্যোক্তা ও এভারেস্টজয়ী ইকরামুল হাসান শাকিল বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা প্রকৃতির প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে উঠুক। প্রকৃতির সাথে সখ্যই হোক তাদের মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার প্রথম পাঠ। গতানুগতিক বইয়ের শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে আনন্দ, সৃজনশীলতা, অভিজ্ঞতা আর অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিকশিত হোক তাদের মেধা ও মনন। সেই সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ প্রকৃতিপাঠ পাঠশালা মূলত ব্রেথ অব ন্যাচার (বন) ফাউন্ডেশনের একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষামূলক কার্যক্রম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *