Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

অন্যের জমিতে কাজ করা সাঈদ এখন দৈনিক ২ হাজার কেজি ড্রাগন বিক্রি করেন

Published July 30, 2026 · Updated August 2, 2026 · By Jennifer Garcia - bangladailypost.com

Foto : Jennifer Garcia - bangladailypost.com

চাকরি ছেড়ে কৃষিতে সফল সাঈদ সরকার: এখন দৈনিক ২ হাজার কেজি ড্রাগন বিক্রি করেন

Bangladailypost.com – অন য র জম ত ক জ - ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সাঈদ সরকারের গল্প আজ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। চাকরি ছেড়ে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করলেও তিনি হাল ছাড়েননি। বরং কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনায় তিনি এখন একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার উৎপাদিত ড্রাগন ফল দেশের বিভিন্ন শহরে সরবরাহ হয় এবং বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

প্রাথমিক সংগ্রাম ও চাকরি ত্যাগ

২০২১ সাল পর্যন্ত সাঈদ সরকার একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় ভালো পদে চাকরি করতেন। কিন্তু দেশের বাজারে বিদেশি ফলের চাহিদা বাড়তে থাকায় তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত বিদেশি ফল আবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই ভাবনা থেকে ২০২১ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। নিজের দেড় বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেন তিনি।

তবে এই যাত্রা প্রথমদিকে সহজ ছিল না। সাঈদ সরকার চাচাতো ভাইয়ের জমিতে শ্রমিক হিসেবেও কাজ করতেন। চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজ শুরু করলে অনেকের কাছ থেকে কটুকথা শুনতে হয়েছিল। পরিচিত লোকজনের তাচ্ছিল্য, মশকরা এবং কয়েক দফা লোকসান গুনেও তিনি ড্রাগনের আবাদ চালিয়ে গেছেন।

অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছি। দিনে চারশ টাকা মজুরি পেতাম। কিন্তু তা দিয়ে সংসার চলতো না। চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজ শুরু করলে মানুষ আমাকে নিয়ে নানা রকম কথা বলেছে। আমি হাল ছাড়িনি।

চারা বিক্রি থেকে ফলের আড়তে

২০২১ সালের অক্টোবরে ড্রাগন চাষ শুরুর পর থেকে সাঈদ সরকার নিজেই চারা উৎপাদন শুরু করেন। ভ্যান করে তিনি সেই সব চারা ঝিনাইদহ শহর, কালীগঞ্জ, যশোর, চুট্টাডাঙ্গায় বিক্রি করতেন। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় ড্রাগনের চারা পাঠাতেন।

ড্রাগনের চারা বিক্রি করতে গিয়ে অনেক সময় দিনশেষে লোকসান মাথায় নিয়ে ঘরে ফিরতেন। কিন্তু হতাশ হননি। এভাবে বছর দুই অনেক কষ্ট করেছেন। এরপর তিনি ফলের আড়ত চালু করেন। ২০২২ সালের শেষদিকে গৌরীনাথপুর বাজারে ফলের আড়ত চালু করেন। নিজের বাগানের ফল বিক্রির পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকদের কাছ থেকে ফল কিনে তা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ শুরু করেন।

২০২২ সালে প্রথম 'আইন ফল ভান্ডার' নামে ফলের আড়ত দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। পরে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আড়তের বেচাকেনা বেড়ে যাওয়ায় তার সঙ্গে যুক্ত হন তার বড় ভাই। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

বর্তমান সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সাঈদ সরকার জাগো নিউজকে জানান, এখন প্রায় ১২ বিঘা জমিতে তার ড্রাগন ও পেয়ারার আবাদ রয়েছে। তার দেওয়া চারা থেকে গাজীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লার নিমসার, খাগড়াছড়ি, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ড্রাগনের বাগান গড়ে উঠেছে। এখন তার আড়তে গিয়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার কেজি ড্রাগন ফলের বেচাকেনা হয়।

আসলে বেকার বলে কিছু নেই। মানুষ কখনো বেকার থাকে না। অল্প পুঁজি নিয়ে নিজের মতো করে কিছুর করার উদ্যোগ নিলেই তরুণরা সফল হতে পারে। শুরুটা কখনো বড় কিছু দিয়ে হয় না। ছোট কিছু দিয়ে, অল্প অল্প করে শুরু করতে হয়। এভাবে একদিন বড় হওয়া যায়।

ফেসবুকে তার একটা পেজ ছিল। আড়ত ও ফল বাগানের বিভিন্ন ধরনের ভিডিও বানিয়ে ফেসবুকে ছাড়তেন। মানুষ তার ভিডিও ফেসবুকে দেখে ড্রাগন ফলের চারা ও ফল কেনার অর্ডার করতো। এভাবেই তার শুরু।

সাঈদ সরকার বলেন, উদ্যোক্তা হলে বরং আরও মানুষের কাজের সুযোগ করে দেওয়া যায়। তার আড়তে ও ফলের বাগানে অনেকেই এখন কাজ করেন। তাদেরও কর্মসংস্থান হয়েছে। তিনি মনে করেন, কৃষি উদ্যোক্তা হওয়া তার কাছে নিরাপদ ও গৌরবের। চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের নিজের মতো করে কিছু করা উচিত।