বংশালে স্বামীকে কাঁচি দিয়ে আঘাতের মামলায় স্ত্রীর কারাদণ্ড
Bangladailypost.com – স ব ম র গ পন ঙ – রাজধানীর বংশাল এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামীকে কাঁচি দিয়ে আঘাত করার মামলায় মোছা. রুমা আক্তারকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুটি ধারায় তাকে মোট সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলেও সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে তাকে সর্বোচ্চ চার বছর কারাভোগ করতে হবে।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর এই রায় ঘোষণা করেন। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর বাদীপক্ষের আইনজীবী আতাউর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুই অভিযোগে পৃথক সাজা
আদালত কাঁচি দিয়ে আঘাতের অপরাধে রুমা আক্তারকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে তাকে আরও এক মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
গুরুতর জখম করার অভিযোগে তাকে আরও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থদণ্ড অনাদায়েও অতিরিক্ত এক মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ রয়েছে।
রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছেন, দুই ধারার সাজা একই সময়ে চলবে। এ কারণে পৃথক সাজা যোগ করে সাত বছর হলেও বাস্তবে সর্বোচ্চ চার বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে আসামিকে।
দাম্পত্য কলহ থেকে ঘটনার সূত্রপাত
মামলার নথিতে উঠে এসেছে, সিয়াম ও রুমা আক্তারের বিয়ে হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। বিয়ের পর তারা রাজধানীর কসাইটুলী এলাকায় একটি পৃথক বাসায় বসবাস শুরু করেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাইরে খাবার খেয়ে বাসায় ফেরেন সিয়াম। বাইরে খেয়ে আসার বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। বিরোধের পরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটে আলোচিত এই ঘটনা।
অভিযোগে বলা হয়, ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সিয়াম ঘুমিয়ে থাকার সময় রুমা আক্তার কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে তার পুরুষাঙ্গের একটি অংশ কেটে দেন। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং সিয়ামের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলও রক্তাক্ত জখম হয়।
ঘটনার দিনই সিয়ামের বাবা বাদী হয়ে বংশাল থানায় মামলা করেন। পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে সহিংসতার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি ফৌজদারি মামলার পর্যায়ে গড়ায়।
তদন্ত, অভিযোগপত্র ও বিচার
মামলার তদন্ত শেষে বংশাল থানার উপপরিদর্শক ফেরদৌস আলম ২০২৫ সালের ৫ মে রুমা আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্র দেওয়ার পর বিচারিক কার্যক্রমের প্রস্তুতি এগোয়।
পরে ১০ নভেম্বর রুমা আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। আদালত মামলায় তালিকাভুক্ত ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আসামিও নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন।
ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র, সাক্ষ্য, জেরা এবং আসামিপক্ষের বক্তব্য—সবগুলো ধাপ বিচার প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ মামলাতেও আদালত উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ মূল্যায়ন করে রায় দিয়েছেন।
আদালতের সিদ্ধান্তে ঘটনাটির দুটি পৃথক দিক বিবেচিত হয়েছে—কাঁচি দিয়ে আঘাত এবং সেই আঘাতের গুরুতর ফল। এ কারণেই দুই ধারায় আলাদা সাজা ও অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়। তবে সাজা একসঙ্গে চলার নির্দেশ থাকায় কারাভোগের মেয়াদ নির্ধারণে চার বছরের সাজাটিই কার্যকর সীমা হিসেবে বিবেচিত হবে।
রায়ের অর্থ কী
একাধিক ধারায় দণ্ডিত হলে সব সাজা সব সময় ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হয় না। আদালত যদি সাজাগুলো একসঙ্গে চলার নির্দেশ দেন, তাহলে আসামিকে প্রতিটি সাজা পর্যায়ক্রমে শেষ করতে হয় না। এই মামলায় তিন বছর ও চার বছরের সাজা একইসঙ্গে চলবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে অর্থদণ্ড না দিলে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের নির্দেশ আলাদাভাবে প্রযোজ্য হতে পারে। রায়ে উভয় জরিমানার ক্ষেত্রেই পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক মাস করে কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে।
পারিবারিক বিরোধের মতো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব সহিংসতায় রূপ নিলে তার আইনি পরিণতি গুরুতর হতে পারে। এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের তদন্ত, সাক্ষীদের বক্তব্য, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং প্রমাণ মূল্যায়নের পর আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
বংশাল থানায় দায়ের হওয়া মামলাটির রায়ের মাধ্যমে ঘটনার বিচারিক অধ্যায় শেষ হলেও রায়ে নির্ধারিত অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স ব ম র গ পন ঙ?
স ব ম র গ পন ঙ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স ব ম র গ পন ঙ matter?
স ব ম র গ পন ঙ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

