Sports

৭ জন বাদ, ডুলির দলে টিকে রইলেন দুই প্রবাসী ফুটবলার

og_1789041168_6aa29a103196c

আসিয়ান কাপের প্রস্তুতিতে স্কোয়াড ছোট করলেন টমাস ডুলি

Bangladailypost.com – ৭ জন ব দ ড ল র – ফিফা আসিয়ান কাপ সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রস্তুতিতে নতুন ধাপ শুরু হয়েছে। চলমান জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে বুধবার বিকেলের অনুশীলন শেষে সাতজন ফুটবলারকে ছেঁটে দিয়েছেন প্রধান কোচ টমাস ডুলি। ফলে আপাতত ২৮ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে অনুশীলন চালিয়ে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই কোচ।

ক্যাম্পের শুরুতে ৩৫ জন ফুটবলার ছিলেন ডুলির বিবেচনায়। আগামী এক সপ্তাহ এই ২৮ জনকে পর্যবেক্ষণের পর সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে ১৯ জনের দল গঠন করা হবে। সেই দল নিয়েই ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা বাংলাদেশের।

ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছানোর পর দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন আরও চার ফুটবলার—হামজা দেওয়ান চৌধুরী, শামিত সোম, জায়ান আহমেদ ও ফাহামিদুল ইসলাম। অর্থাৎ দেশের ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়দের মূল্যায়নের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত ফুটবলারদের নিয়েও আসিয়ান কাপের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বাংলাদেশ।

দুই প্রবাসীর ক্যাম্পে থাকার সুযোগ

প্রাথমিকভাবে ২৭ জনকে ডাকা হয়েছিল জাতীয় দলের ক্যাম্পে। পরে ট্রায়াল ও পর্যবেক্ষণের জন্য সাতজন প্রবাসী ফুটবলার যোগ দেন। তাদের মধ্যে আমেরিকাপ্রবাসী গোলরক্ষক সাইফ কেরাওয়ালা এবং জাপানপ্রবাসী শুটিং ইতোফুসা পরের ধাপের দলে জায়গা ধরে রাখতে পেরেছেন।

বাকি প্রবাসী ফুটবলারদের ক্যাম্প থেকে বিদায় জানানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ডুলি এখন ছোট পরিসরের দলে নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। টুর্নামেন্টের আগে প্রতিটি পজিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, খেলোয়াড়দের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকগুলোই কোচিং স্টাফের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

জাপানপ্রবাসী শুকির ঘরোয়া ফুটবলে খেলার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এবার তিনি ফর্টিস এফসির হয়ে খেলবেন। স্থানীয় লিগে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে থাকার সুযোগ তৈরি হবে তার জন্য।

যাঁরা প্রাথমিক দল থেকে বাদ পড়লেন

ডুলির নতুন ছাঁটাইয়ে প্রাথমিক স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া উল্লেখযোগ্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন ইয়াসার তাহমিদ, দেবজিৎ সরকার, ইসা ফয়সাল, কাজেম শাহ, তাজ উদ্দিন এবং রাব্বি হোসেন। জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া মানেই শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের দলে থাকা নয়; অনুশীলন, শারীরিক প্রস্তুতি, কৌশলগত উপযোগিতা ও পজিশনভিত্তিক প্রয়োজন মিলিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইসা ফয়সাল, কাজেম শাহ ও তাজ উদ্দিন এর আগে সান মারিনো সফরের দলেও ছিলেন। অন্যদিকে রাব্বি হোসেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, ভুটানের বিপক্ষে। এবার তারা আসিয়ান কাপের প্রস্তুতির পরের ধাপে জায়গা করে নিতে পারেননি।

এই বাদ পড়া খেলোয়াড়দের জন্য জাতীয় দলের পথ অবশ্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। সামনে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ও ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে আবারও বিবেচনায় আসার সুযোগ থাকবে। জাতীয় দলের নির্বাচন সাধারণত একটি নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টের চাহিদা অনুযায়ী বদলাতে পারে।

জাকার্তায় তিন ম্যাচের কঠিন সূচি

আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে। একই ভেন্যুতে খেলা হওয়ায় দলগুলোকে যাতায়াতের চাপ সামলাতে হবে না, তবে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলার বাড়তি চ্যালেঞ্জ থাকছে বাংলাদেশের সামনে।

বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট শুরু হবে ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ১ অক্টোবর, প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া।

তিন ম্যাচের এই সূচিতে প্রস্তুতির সময় সীমিত হওয়ায় দল নির্বাচনের কাজটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার আগে ডুলিকে ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে এমন একটি দল বেছে নিতে হবে, যারা দ্রুত সমন্বয় গড়ে তুলতে পারবে। পরে যোগ দেওয়া চার ফুটবলারের সঙ্গে দলের বোঝাপড়াও টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

চূড়ান্ত ১৯ জনের অপেক্ষা

এখন জাতীয় দলের ক্যাম্পে টিকে থাকা ২৮ ফুটবলারের সামনে মূল লক্ষ্য চূড়ান্ত ১৯ জনের তালিকায় নাম তোলা। অনুশীলনের পরবর্তী এক সপ্তাহে ডুলি ও তার সহকারীরা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স আরও কাছ থেকে দেখবেন। গোলরক্ষক, রক্ষণভাগ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে ভারসাম্য রেখে দল সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে।

সাইফ কেরাওয়ালা ও শুটিং ইতোফুসার ক্যাম্পে টিকে থাকা প্রবাসী ফুটবলারদের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে ২৮ জনের তালিকায় থাকা মানেই চূড়ান্ত দলের নিশ্চয়তা নয়। ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশ দল যাওয়ার আগে কোচের শেষ সিদ্ধান্তেই পরিষ্কার হবে, কারা আসিয়ান কাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়া এই অভিযানের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি এখন পুরোপুরি দল গঠনের দিকে কেন্দ্রীভূত। ক্যাম্পের প্রতিটি অনুশীলন তাই ফুটবলারদের জন্য নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ, আর কোচিং স্টাফের জন্য প্রতিযোগিতামূলক একটি দল তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সময়।

Frequently Asked Questions

What is ৭ জন ব দ ড ল র?

৭ জন ব দ ড ল র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ৭ জন ব দ ড ল র matter?

৭ জন ব দ ড ল র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *