নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশা ট্রাম্পের
Bangladailypost.com – ইর ন য দ ধ কব শ – যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হলেই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাত নতুন করে জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে তীব্র হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় আবার হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
সংঘাতের প্রভাব এখন মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও স্পষ্ট। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি অবস্থান করছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে বলে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনের সঙ্গে যুদ্ধের যোগসূত্র
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও যুদ্ধের চাপের মধ্যে দেশে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এমন প্রেক্ষাপটে তিনি দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এই ভোটে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠবে।
৯ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। তার যুক্তি, ইরানের পক্ষে দীর্ঘ সময় সংঘাত চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার চেষ্টা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
“নির্বাচন শেষ হলেই যুদ্ধ শেষ হবে বলে আমার ধারণা।”
তবে এর আগেও সংঘাত বন্ধের জন্য একাধিক সময়সীমার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। সেসব প্রত্যাশা স্থায়ী সমাধানে রূপ নেয়নি। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন উপদেষ্টা ব্যক্তিগত আলোচনায় তাকে সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধ প্রেসিডেন্টের বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্তও চলতে পারে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা
ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানে ভূগর্ভে গভীরে নির্মিত দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে, যা ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগের আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে। নাতাঞ্জের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই পাহাড়ি অঞ্চলকে ঘিরে নজর আরও বেড়েছে।
রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স এলাকায় কিছু কর্মকাণ্ড তার নজরে এসেছে। তিনি ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের কৌশল বা গোপন তৎপরতা গ্রহণ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকেই তিনি ওই এলাকায় হামলার সম্ভাবনার কথা বলে আসছেন।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ ছিল সেই অভিযানের অন্যতম কারণ। ইরান অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ।
হরমুজে জাহাজ চলাচল আবার কমেছে
সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন বলছিল, এই পথ দিয়ে ট্যাংকার চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার হতে সহায়তা করছে। কিন্তু চলতি মাসে পাল্টাপাল্টি হামলা বাড়ার পর সেই পুনরুদ্ধার বড় ধাক্কা খেয়েছে।
প্রাথমিক নৌ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য বলছে, ৯ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র সাতটি জাহাজ। এটি তার আগের ১০ দিনের দৈনিক গড়ের প্রায় অর্ধেক। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচল কবে পুরোপুরি ফিরবে, তা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ইরান দাবি করেছে, হরমুজের কাছে তারা ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দিয়েছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ দ্রুত যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।
সৌদি আরব ও লোহিত সাগরে বাড়তি চাপ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সঙ্গে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি বাহিনীর লড়াইও তীব্র হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চতুর্থবার জরুরি সতর্কতা জারি করে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ৮ সেপ্টেম্বর জানায়, সাম্প্রতিক হুথি হামলায় খামিস মুশাইতসহ দক্ষিণাঞ্চলের চারটি শহরে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হুথিদের দাবি, তারা খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি এবং আশপাশের শহরগুলোর তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর সৌদি ভূখণ্ডে এটি হুথিদের বড় হামলাগুলোর একটি।
লোহিত সাগর ও তার পার্শ্ববর্তী নৌপথে অস্থিরতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহনও চাপের মধ্যে পড়েছে। হরমুজে ট্যাংকার চলাচল কমে যাওয়া এবং লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি একসঙ্গে বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য বড় অনিশ্চয়তার উৎস হয়ে উঠেছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ইর ন য দ ধ কব শ?
ইর ন য দ ধ কব শ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ইর ন য দ ধ কব শ matter?
ইর ন য দ ধ কব শ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

