International

ইমরান খান ও তার স্ত্রীকে স্বস্তির খবর দিলেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট

og_1788279551_6a96faffbf975

আদালতের নতুন নির্দেশে ইমরান খান-বুশরা বিবির একাকী কারাবন্দির অবসান

Bangladailypost.com – ইমর ন খ ন ও ত র – রাওয়ালপিন্ডির আদীলালা কারাগারে বন্দি থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে আর আলাদা আলাদা কোঠায় বন্ধ করে রাখা হবে না। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি) গতকাল কারা কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে — কারাগারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী এই দম্পতির মধ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে হবে। বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরোর নেতৃত্বে আদালত এই সিদ্ধান্তে পরিবারের সদস্যদের ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নিশ্চিত করারও আদেশ জারি করেছে।

আদালতের নির্দেশের বিস্তারিত

বিচারপতি সোমরোর আদেশে আরও বলা হয়েছে, ইমরান খানের দুই ছেলের সঙ্গে তার ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কারা কর্তৃপক্ষকে। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী নিশ্চিত করারও আদেশ জারি হয়েছে। আদীলালা কারাগারের সুপারিনটেন্ডেন্টকে এই সব নির্দেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে একটি বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ আছে।

এই আদেশের পেছনে দুটি আবেদন কাজ করেছে। ইমরান খানের বোন আলিমা খান আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তার ভাইকে একাকী কারাবন্দি রাখার অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে বুশরা বিবির মেয়ে মুবাশারা খানের পুত্র তার মায়ের বিষয়ে পৃথক আবেদন দায়ের করেন। দুই আবেদনেরই মূল দাবি ছিল পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাতের অধিকার নিশ্চিত করা।

কারাবন্দির পটভূমি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার-রাজনীতিক ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আদীলালা কারাগারে আছেন। দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় তার দীর্ঘ মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে এসব মামলায় দেওয়া সাজা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার সমর্থক ও স্বজনরা বারবার অভিযোগ করেছেন যে কর্তৃপক্ষ তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার সীমিত করেছে। সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বুশরা বিবির কারাবন্দির ইতিহাসও আলাদাভাবে দীর্ঘ। দুর্নীতিসংক্রান্ত একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে প্রথমবার ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় নয় মাস কারাভোগের পর ওই বছরের ২৪ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর আরেকটি দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ফলে ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়। এরপর আরও কয়েকটি দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলায় তাকে অতিরিক্ত সাজা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনিও আদীলালা কারাগারেই বন্দি আছেন।

হাসপাতাল স্থানান্তর নিয়ে বিতর্ক

ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে পরিবার ও সমর্থকদের উদ্বেগ বাড়ছিল। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে তার চোখে শনাক্ত হওয়া সমস্যাটি নিয়ে উদ্বেগ ছিল তীব্র। গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল।

তবে ২০ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে তাকে শিফা হাসপাতালে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার একটি চিকিৎসা-প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরে তাকে আবার আদীলালা কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।

এরপর ইমরান খানের পরিবার আবার আদালতের দ্বারস্থ হন। তাদের যুক্তি ছিল — তাকে পিআইএমএসে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের লঙ্ঘন। ওই নির্দেশে পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি রাখার কথা বলা হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে পিআইএমএসে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখানো হয়েছে।

১৬ সেপ্টেম্বরের শুনানি: তিন বিচারপতির বেঞ্চ

এই ঘটনায় আদালত অবমাননার আবেদনটি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ওই শুনানি করবেন — বিচারপতি শহীদ ওরওয়াইদ, নাঈম আখতার আফগান ও ইশতিয়াক ইব্রাহিম। একই বেঞ্চে ইমরান খানের স্বাস্থ্য এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ-সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলোরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এই শুনানির ফলাফল পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও আইনি দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। পিটিআই-সমর্থিত মহল আশা করছে আদালত সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের পক্ষে দাঁড়াবে। অন্যদিকে সরকারের অবস্থান হলো নিরাপত্তা বিবেচনায় পিআইএমএসই ছিল উপযুক্ত স্থান। দুই পক্ষের এই আইনি সংঘাতের সমাধান কীভাবে আসে, তা দেখতে হবে আগামী সপ্তাহে।

Frequently Asked Questions

What is ইমর ন খ ন ও ত র?

ইমর ন খ ন ও ত র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ইমর ন খ ন ও ত র matter?

ইমর ন খ ন ও ত র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *