National

ভূমি অফিসে হয়রানি-দুর্নীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিসি ফরিদা

og_1788297938_6a9742d25cb13

ঢাকা জেলায় ভূমি-সেবার নতুন মানদণ্ড: ঘুষ, দালাল ও বিলম্বের দিন শেষ করতে ডিসির তীব্র নির্দেশ

Bangladailypost.com – ভ ম অফ স হয়র ন দ – রাজধানীর সাধারণ নাগরিকের জন্য জমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র নিষ্পত্তি করা প্রায়শই দীর্ঘ, জটিল এবং অনিশ্চিত প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। দালালের হাত ধরে ফাইল ঘুরতে ঘুরতে সপ্তাহে সপ্তাহ নষ্ট হয়, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের চাপ পড়ে, আর শেষমেশ মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে আসে। এই দীর্ঘদিনের সমস্যার মুখে সরাসরি দাঁড়িয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মাঠপর্যায়ের ভূমি-কর্মকর্তাদের সামনে এক স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরেন—সেবা দিতে গিয়ে কোনো নাগরিককে আর হরানি, ঘুষ বা দালালের খপ্পরে পড়তে হবে না।

মতবিনিময় সভায় মাঠপর্যায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তারা। সভার মূল আলোচ্য ছিল ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, সেবা-প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং নাগরিক ভোগান্তি হ্রাস। ফরিদা খানম এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের প্রতি সরাসরি নির্দেশনা দেন, একই সঙ্গে তাদের কাজের বর্তমান অবস্থাও তুলে ধরা হয়।

সেবা-সময়সীমা ও অফিসে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা

নামজারি, খতিয়ান, মিউটেশনসহ ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা নিয়ে গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। কর্মকর্তাদের অফিসে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা কার্যক্রম শুরু করারও নির্দেশ দেন তিনি। অর্থাৎ, ফাইল টেবিলে পড়ে থাকলেই নয়—কর্মকর্তার শারীরিক উপস্থিতি এবং সময়মতো প্রক্রিয়া শুরু করা এখন একটি প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা।

ভূমি অফিসে একজন নাগরিক কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নিতে আসেন না; তিনি রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য সেবা নিতে আসেন। তাই নাগরিককে যথাযথ সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বের পাশাপাশি নৈতিক কর্তব্যও।

এই বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে একটি সহজ কিন্তু প্রায়শই উপেক্ষিত সত্য—সরকারি সেবা কোনো ব্যক্তির অনুগ্রহ নয়, এটি নাগরিকের আইনগত অধিকার। সেবা-প্রক্রিয়ায় গাফিলতি, অনিয়ম বা নাগরিক হরানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করে জানান ফরিদা খানম।

দুর্নীতি ও দালাল-নির্ভরতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’

সরকারের দুর্নীতি-বিরোধী নীতির কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ঘুষ নেওয়া, নির্ধারিত ফি-র বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়, ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইল আটকে রাখা কিংবা অকারণে কোনো নাগরিককে ঘোরানো—এসব প্রক্রিয়া আর চলবে না। দালালের মাধ্যমে ভূমিসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

এ ধরনের কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভূমি অফিসগুলোকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়ে ফরিদা খানম বলেন, নাগরিকদের সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা দিতে হবে। কোন সেবার জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন, সরকারি ফি কত এবং সেবা পেতে কত সময় লাগবে—এসব তথ্য অফিসের প্রবেশদ্বারেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। এতে নাগরিকের হাতে তথ্য থাকলে দালালের প্রয়োজনীয়তা নিজে থেকেই কমবে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

সভায় ঢাকা জেলার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের চিত্রও তুলে ধরা হয়। সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ এই অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ টাকা। এর বিপরীতে প্রকৃত আদায় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৬ টাকা—অর্থাৎ দাবির তুলনায় আদায়ের হার ১১০ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ছাড়া সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর থেকে ২৬ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ টাকা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি হিসেবে ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ১২৫ টাকা আদায় হয়েছে।

এই সাফল্যের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসিলদারসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক। তিনি মন্তব্য করেন, এই অর্জন সম্ভব হয়েছে কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার কারণে।

ভূমি প্রশাসনের মূল লক্ষ্য: ফাইল নয়, মানুষ

সভার সমাপ্তিকালে ফরিদা খানম ভূমি প্রশাসনের কাজকে শুধু ফাইল নিষ্পত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে না দিয়ে একটি বড় চিত্র তুলে ধরেন।

ভূমি প্রশাসনের কাজ শুধু ফাইল নিষ্পত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সমস্যার সমাধান করাই মূল লক্ষ্য। নাগরিকরা যেন কোনো দালালের সহায়তা ছাড়াই সহজ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভূমিসেবা নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে। সেবা নিতে এসে কোনো মানুষকে যেন দিনের পর দিন ঘুরতে না হয় এবং কাজ শেষে সন্তুষ্ট হয়ে বাসি ফিরতে পারেন—কর্মকর্তাদের সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

সাধারণ মানুষের কাছে জমি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই সম্পদের কাগজপত্র নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় কেউ যেন অপমানিত বা হরানির শিকার হয়ে ফিরে না যায়—এই দায়িত্ব এখন প্রতিটি মাঠপর্যায় কর্মকর্তার নৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তব্য। মানবিক আচরণের নির্দেশও দেওয়া হয় এই সভায়। ঢাকা জেলার প্রায় ১২০ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবন-জীবিকা সরাসরি ভূমি-সেবার সঙ্গে জড়িত; তাই এই সেবা-প্রক্রিয়ার মানদণ্ড বাড়ানো কেবল প্রশাসনিক সুবিধা নয়, এটি একটি সামাজিক প্রয়োজন।

Frequently Asked Questions

What is ভ ম অফ স হয়র ন দ?

ভ ম অফ স হয়র ন দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ভ ম অফ স হয়র ন দ matter?

ভ ম অফ স হয়র ন দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *