Country

গাজীপুরে তিন প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

og_1788191370_6a95a28a62963

কালীগঞ্জের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কড়া পদক্ষেপ: তিন প্রতিষ্ঠানে ৫৬ হাজার টাকার জরিমানা

Bangladailypost.com – গ জ প র ত ন প – গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভোক্তা অধিকার ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলার খলাপাড়া ও বাসাইর বাজার এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা মামলা গঠন করে মোট ৫৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিন হালদার।

ওজন-পরিমাপ আইন লঙ্ঘনে শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার টাকার জরিমানা

অভিযানের সবচেয়ে বড় জরিমানা বহন করে শ্যাম বাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের খলাপাড়া এলাকায় অবস্থিত এই শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ওজন ও পরিমাপসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল। এই লঙ্ঘনের ভিত্তিতে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ৫২ ধারার আওতায় মামলা গঠন করে আদালত জরিমানা আরোপ করেন।

বাংলাদেশে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর প্রবর্তনের পর শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী ওজন-পরিমাপ যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও নথিভুক্ত করার বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এই আইনের লক্ষ্য হলো ভোক্তা যাতে ভুয়া ওজন বা পরিমাপে প্রতারিত না হন। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত ক্যালিব্রেশন সার্টিফিকেট, ওজন-পরিমাপ যন্ত্রের রেজিস্ট্রেশন নথি এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদনপত্র সংরক্ষণ করতে হয়। এই নথিভুক্তি না থাকলে আইনের ৫২ ধারায় মামলা গঠনের সুযোগ তৈরি হয়, যা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা কার্যকরী কার্যকলাপে বাধা দেওয়ার বিধান রাখে।

দুই মেডিকেল হলে ওষুধ আইন লঙ্ঘনে আলাদা মামলা

অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ওষুধ সংরক্ষণ ও প্রদর্শন সংক্রান্ত দুটি আলাদা মামলা। ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ৪০(খ) ও (গ) ধারার ভিত্তিতে এই মামলাগুলো গঠন করা হয়।

প্রথম মামলায় সবুজ মেডিকেল হলের মালিক তাপস ধর (৩৩) বিরুদ্ধে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল জাতীয় ওষুধ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রদর্শনের অভিযোগ তোলার পর ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দ্বিতীয় মামলায় ভাই ভাই মেডিকেল হলের জামিল আহম্মেদ (৩৯) বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে একই পরিমাণে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ নীতি অনুযায়ী চিকিৎসকদের জন্য নমুনা হিসেবে প্রদত্ত ওষুধ সাধারণ ভোক্তা বা রোগীদের কাছে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ বা বিক্রি জনস্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করে, কারণ এ ধরনের ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস পেয়ে থাকে এবং কিছু ক্ষেতে পক্ষপাতী পদার্থ উৎপন্ন হতে পারে।

আদালতের বিচারক: নজরদারি অব্যাহত থাকবে

অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক আল-আমিন হালদার সাংবাদিকদের জানান, জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন এবং বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রশাসন স্পষ্টভাবে সংকেত দেয় যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এককালীন নয়, বরং ধারাবাহিক ও নিয়মিত হবে। কালীগঞ্জের মতো উপজেলায় বাণিজ্যিক কার্যকলাপের আয়তন বাড়ার সাথে সাথে ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অভিযানে যুক্ত কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান

অভিযানে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) গাজীপুরের পরিদর্শক মহিউদ্দীন ওয়ারেছী এবং গাজীপুরের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক তানজিনা আফরিন। বেঞ্চ সহকারীর দায়িত্বে ছিলেন মাহবুবুল ইসলাম।

বিএসটিআই বাংলাদেশে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ওজন-পরিমাপ যন্ত্রের ক্যালিব্রেশন নিশ্চিত করার প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ওষুধের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও সংরক্ষণের নিয়মকানুন প্রয়োগে ভূমিকা রাখে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উপস্থিতি অভিযানে নিশ্চিত করে যে ওজন-পরিমাপ ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ—উভয় ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক তদারকি একই অভিযানে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভূমিকা ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০১৩ সাল থেকে কার্যকর, যার উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায়বিচারের দরজা খোলা রাখা এবং বাণিজ্যিক অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কালীগঞ্জ উপজেলা গাজীপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্র, যেখানে শত শত ছোট-মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ওষুধ-সামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান কাজ করে। এই প্রেক্ষাপটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত উপস্থিতি ভোক্তা সচেতনতা ও বাণিজ্যিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অপরিহার্য উপায় হিসেবে কাজ করে।

এই অভিযানের ফলাফল দেখায় যে প্রশাসন ভোক্তা সুরক্ষা ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে স্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মকানুন মেনে চলার জন্য আরও সতর্ক হতে হবে।

Frequently Asked Questions

What is গ জ প র ত ন প?

গ জ প র ত ন প is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does গ জ প র ত ন প matter?

গ জ প র ত ন প matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *