Campus

চবিতে নারী শিক্ষার্থীকে সাইবার বুলিং-যৌন হয়রানির অভিযোগ

og_1788192085_6a95a555994f0

চবিতে মেসেঞ্জার গ্রুপে নারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যৌন হুমকিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ: প্রক্টর অফিসে লিখিত শিকার

Bangladailypost.com – চব ত ন র শ ক ষ – সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বন্ধুরা মনে হয় নিরাপদ জায়গা, কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা তা প্রমাণ করে না। গত ২৯ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া একটি মেসেঞ্জার গ্রুপের বিতর্ক ধীরে ধীরে রূপ নেয় যৌন হুমকিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে, যা শেষ পর্যন্ত প্রক্টর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগে পরিণত হয়। পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের আওতায় নিয়েছে।

ঘটনার ধারা: একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে শুরু

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট ‘সিইউ ইনসাইডার’ নামের একটি ফেসবুক পেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র-জুনিয়র শিষ্টাচার নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট প্রকাশিত হয়। এই পোস্টটি পরবর্তীতে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে শেয়ার করা হয়। শেয়ারের পর গ্রুপে কয়েকজন শিক্ষার্থীর পারিবারিক পটভূমি ও আচার-আচরণ নিয়ে অশালীন মন্তব্যের স্রোত শুরু হয়।

বিষয়টি শান্ত করার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গ্রুপে অনুরোধ জানান, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক চালিয়ে যাবেন না। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অনুরোধই অভিযুক্তদের ক্ষুব্ধ করে। তারা নিজেদের ব্যাচের আলাদা গ্রুপে গিয়ে ওই নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে যৌন হুমকিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শুরু করেন।

অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থী

অভিযোগে নাম উল্লেখ পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ, লাবণ্য তিশা, তানভীর হোসেন, জোবাইদা বিনতে হোসেন ও সোলাইমান আবির। তাদের মধ্যে মারুফ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা যায়। তবে মারুফ নিজে দাবি করেন, বর্তমানে তিনি কোনো পদে নেই।

প্রথম অভিযোগের পরেও থামেনি হুমকি

বিভাগীয় সভাপতির পরামর্শে ভুক্তভোগী প্রক্টর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রক্টর অফিস অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর জন্য ডাকাও করে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এই ধাপের পরেই নতুন একটি ট্রোল গ্রুপ খোলা হয়, যেখানে তাকে আবার হুমকি দেওয়া শুরু হয়। ওই গ্রুপে ভুক্তভোগীর এক বন্ধুর ফেসবুক আইডি থেকে অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি কভার ফটো হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পরে গ্রুপের এক সদস্য স্ক্রিনশট পাঠালে বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, সিআর হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়া অভিযুক্তদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না। অন্যের প্রতিবাদ করায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাইবার বুলিং ও যৌন হুমকি করা হয়েছে। প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দেওয়ার পরও হুমকি বন্ধ হয়নি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযুক্তের পক্ষ: র্যাগিংকে কেন্দ্র করে শুরু

মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, ঘটনাটি মূলত র্যাগিংকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে। সিনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে তাদের র্যাগিং করতেন, যা উত্তেজনার কারণ হয়েছিল। তবে কোনো যৌন হুমকির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মানতে চান না। গ্রুপে তর্কের সময় তিনি উপস্থিত থাকলেও ছবি বিকৃতি বা নতুন গ্রুপ তৈরির সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে জানান।

ছাত্রসংসদের আইনি সহায়তার ঘোষণা

ছাত্রসংসদের আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বী তৌহিদ জানান, অভিযোগটি প্রক্টর অফিসের মাধ্যমে বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বিভাগে সুরাহা না হলে পরবর্তী ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে এবং ছাত্রসংসদের ‘ফ্রি লিগ্যাল এইড সেল’-এর মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে বিনামূল্যে নারী আইনজীবীর সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রক্টর অফিসের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, অভিযোগটি আমরা পেয়েছি এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে。

বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাইবার হুমকির বর্ধনশীল চিত্র

বাংলাদেশের বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেসেঞ্জার অ্যাপ ও সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের—বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের—বিরুদ্ধে অনলাইন হুমকির ঘটনা বহুগুণ বেড়েছে। ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, মেসেঞ্জার চ্যাট—এই মাধ্যমগুলো ক্যাম্পাসের ভেতরের সামাজিক দূরত্ব ভেঙে দেয়, কিন্তু একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সীমানাও মুছে দেয়। একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট শেয়ার করা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা—এই ধরনের ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, ক্যাম্পাসের ডিজিটাল জায়গা এখনও পর্যাপ্ত নিয়ম-নীতি ও তদারকির অভাবে ভরা।

প্রক্টর অফিসের তদন্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আওতায় শাস্তি একটি প্রয়োজনীয় ধাপ। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল আচরণ সম্পর্কে স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে। সাইবার ট্রাইব্যুনালের মতো বাহিরের আইনি ব্যবস্থাও এখন আর দূরের কোনো অপশন নয়—এটি ক্যাম্পাসের ভেতরের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য বাস্তবসম্মত একটি বিকল্প।

এই ঘটনার ফলাফল কেবল পাঁচ শিক্ষার্থীর জন্য নয়, বরং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো নারী শিক্ষার্থীর জন্য একটি সংকেত হবে: ক্যাম্পাসের ডিজিটাল জায়গায় তাদের নিরাপত্তা প্রশাসনের কতটা অগ্রাধিকার। তদন্তের ফলাফল ও শাস্তির মাত্রা এই প্রশ্নের উত্তর দেবে।

Frequently Asked Questions

What is চব ত ন র শ ক ষ?

চব ত ন র শ ক ষ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does চব ত ন র শ ক ষ matter?

চব ত ন র শ ক ষ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *