Country

১৩৫ বছরের পাকশী রেলওয়ে হাসপাতালজুড়ে ভূতুড়ে পরিবেশ

১৩৫ বছর র প কশ র লওয় - পদ্মা নদীর ধারে ছায়াঘেরা এক নিবিড় প্রাকৃতিক পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক অবকাঠামো। কালের সাক্ষী হয়ে নীরবে অপেক্ষা করছে ৪৪ শয্যার

Desk Country
Published August 20, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
og_1787207545_6a869f7959443
Foto : Daniel Williams - bangladailypost.com
Table of Contents
  1. পদ্মার তীরে নীরব ১৩৫ বছরের পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

পদ্মার তীরে নীরব ১৩৫ বছরের পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল

Bangladailypost.com – ১৩৫ বছর র প কশ র লওয় – পদ্মা নদীর ধারে ছায়াঘেরা এক নিবিড় প্রাকৃতিক পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক অবকাঠামো। কালের সাক্ষী হয়ে নীরবে অপেক্ষা করছে ৪৪ শয্যার এই হাসপাতাল — যেখানে এখন আর কোনো রোগীকে ভর্তি করা হয় না। দুই বছর ধরে আন্তঃবিভাগে (ইনডোর) ভর্তি সম্পূর্ণ বন্ধ। বহির্বিভাগেই সীমাবদ্ধ চিকিৎসা সেবা। গুরুতর অসুস্থ রোগী এলে প্রাথমিক প্রতিকারের পর রাজশাহী রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল বা ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে রেফার্ড করা হয়।

একসময় এই হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা দিন-রাত রোগীদের সামলাতে হিমশিম খেতেন। ৪৪ শয্যার বেডে ১০০-১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকত; বেডের বাইরে মেঝে ও বারান্দায়ও চিকিৎসা চলত। সেই জৌলুস আজ আর নেই। হাসপাতালজুড়ে শুধু সুনসান নীরবতা।

ঐতিহাসিক পটভূমি

১৯০৯ সালে দেশের প্রথম বৃহত্তম রেলসেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ ও পাকশী বিভাগীয় শহর প্রতিষ্ঠার সমকালে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসার প্রয়োজনে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু। তখন নাম ছিল ‘পাকশী রেলওয়ে ডিসপেনসারি’। এটি ছিল পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে অর্থ বিভাগ কার্যালয়ের অভ্যন্তরে স্থাপিত। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে পদ্মা নদীর তীরে তিন একর জমিতে স্থানান্তর করা হয় এবং নামকরণ হয় ‘রেলওয়ে হাসপাতাল পাকশী’।

ব্রিটিশ আমলের নান্দনিক স্থাপত্য ও পাকিস্তান শাসনামলের অবকাঠামোর আদল — দুই যুগের নিদর্শন বহন করে চলে এই ভবন। পদ্মার তীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশাল স্থাপনা যেকোনো দর্শককে মুগ্ধ করতে পারে।

জনবল সংকট: সংখ্যার ভাষায়

হাসপাতালে বর্তমানে ৮৬ জন লোকবল থাকার কথা, কিন্তু উপস্থিত মাত্র ১৮ জন। ৫ জন চিকিৎকের পদে আছেন দুই জন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ডিএমও) সপ্তাহে তিন দিন পাকশী হাসপাতালে ও দুই দিন রাজশাহী রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালে রোগী দেখেন। একজন সহকারী সার্জন কর্মরত থাকলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে রাজবাড়িসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন রেলওয়ে হাসপাতালে সেবা দেন। ফলে সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন এখানে চিকিৎসকের উপস্থিতি নেই।

সিনিয়র স্টাফ নার্সের ছয় পদের মধ্যে কর্মরত একজন। সিস্টার ইনচার্জ নেই, স্টোর কিপার নেই, সিনিয়র সেনেটারি পরিদর্শক পদ শূন্য, প্রধান সহকারী নেই। ফার্মাসিস্টের তিন পদের দুই জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) একজন, স্টেনো টাইপিস্ট একজন কর্মরত। এছাড়া লেডি হেলথ ভিজিট, স্টুয়ার্ড, জুনিয়র নার্স ৩ জন, ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ জন, ওটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ জন, অ্যাম্বুলেন্স চালক 1 জন, স্যানিটারি পরিদর্শক ৪ জন, মিডওয়াইফ ২ জন, ড্রেসার ২ জন, বাবুর্চি ২ জন, ওয়ার্ড অ্যাটেনডেন্টের ৭ জনের স্থলে ২ জন, আতা ৩ জন, সহকারী বাবুর্চি ২ জন, খালাসী ৪ জন, মেডিসিন ক্যারিয়ার, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ মোট ৬৮টি পদ খালি।

এ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এলে ডাক্তার পাওয়া যায় না। হাত আন্দাজে এখান থেকে ওষুধ নিয়ে খাই। এতে অসুখ ভালো হবে নাকি আবার নতুন অসুখ শুরু হবে সেটা বলতে পারি না।

এখানে সিনিয়র নার্সের পদ রয়েছে ৬টি। এরমধ্যে শুধুমাত্র আমি কর্মরত রয়েছি। জরুরি কোনো রোগী এলে ডিউটি না থাকলেও বাধ্য হয়ে আমাকে আসতে হয়। আমাদের জনবল সংকট। জনবল দিলে ভালোভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবো।

সরেজমিনে প্রথম দিন

ঘড়ির কাঁটা সকাল ৯টা ৩০ মিনিট। হাসপাতালের প্রবেশ পথ খোলা, তবু পুরো ভবন ঘুরে কাউকে পাওয়া যায়নি। বারান্দায় শুধু একজন কর্মচারীর মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে আছে। হাসপাতালজুড়ে ভূতুড়ে পরিবেশ। সকাল ১০টার দিকে একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর স্টেনো টাইপিস্ট পদে কর্মরত সাইফুল হাসপাতালে আসেন।

পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো হাসপাতাল। এ হাসপাতালের এলাকাও অনেক বড়। মূল সমস্যা হচ্ছে এ হাসপাতালে ডাক্তার ও জনবল সংকট। সেটি হলে অন্য সমস্যাগুলোও সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি জানান, পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় কার্যালয়ের পাশে আমতলায় রেলওয়ে কর্মচারীদের একটি প্রতিবাদ সমাবেশ চলছে। সেখানে হাসপাতালের কর্মচারীরা যোগ দিচ্ছেন, তাই হাসপাতালে তাদের উপস্থিতি নেই।

বর্তমানে বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৮০-১০০ জনকে চিকিৎসা সেবা ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। পাকশী রেল বিভাগের অধীনে জিন্দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী, খুলনা থেকে হিলি, পঞ্চগড় থেকে ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ পর্যন্ত রেলওয়েতে কর্মরত শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারীর চিকিৎসা এই হাসপাতালের দায়িত্ব। জনবল সংকট, আধুনিক সরঞ্জামের অভাব ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান নিজেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

Frequently Asked Questions

What is ১৩৫ বছর র প কশ র লওয়?

১৩৫ বছর র প কশ র লওয় is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ১৩৫ বছর র প কশ র লওয় matter?

১৩৫ বছর র প কশ র লওয় matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment