Politics

‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ

আপসহ ন ন ত র খ ল - শনিবার, ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অষ্টম দশকের

Desk Politics
Published August 15, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
og_1786768163_6a7feb2373017
Foto : Mary Jones - bangladailypost.com
Table of Contents
  1. রাজপথের সংগ্রামী নেত্রীর অষ্টম দশকের স্মৃতি
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

রাজপথের সংগ্রামী নেত্রীর অষ্টম দশকের স্মৃতি

Bangladailypost.com – আপসহ ন ন ত র খ ল – শনিবার, ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অষ্টম দশকের জন্মদিন। দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি অনেক বাঁক পেরিয়েছেন। ক্ষমতার শীর্ষ থেকে রাজপথের সংগ্রাম, আন্দোলনের তুফান থেকে কারাগারের কঠিন দিন—সবকিছুই তাঁর জীবনের অংশ।

প্রতিকূলতার মুখেও নিজের অবস্থান থেকে সরে না যাওয়ার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে চেনেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন কেবল একটি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নানা উত্থান-পতনের ইতিহাস। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন, সরকার পরিচালনা, বিরোধী দলের সংগ্রাম—প্রতিটি অধ্যায়ে তাঁর উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট।

রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা ও উত্থান

রাজপথে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব বিএনপিকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থানে নিয়ে যায়। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের পর দেশে গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া।

সেই সময় থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান আরও দৃঢ় হয়। ১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি আবারও সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এই সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তিও আরও বিস্তৃত হয়।

অটল অবস্থান ও দৃঢ়তা

আপসহীনতার রাজনীতি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দগুলোর একটি। দলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক চাপ, আন্দোলন, মামলা কিংবা কারাবাস—কোনো পরিস্থিতিতেই তিনি সহজে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে যাননি। জীবনের শেষ রাজনৈতিক অধ্যায়েও তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

মামলা ও কারাবাসের কারণে দীর্ঘ সময় রাজনীতির সক্রিয় ময়দান থেকে দূরে থাকতে হলেও বিএনপির নেতৃত্বে তাঁর অবস্থান প্রশ্নাতীত ছিল। অসুস্থতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি হয়ে ছিলেন ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু।

বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ‘মূর্ত প্রতীক ও মূল প্রেরণা’ ছিলেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এই দৃঢ়তার কথাই বিশেষভাবে তুলে ধরেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রিজভী বলেন, তাঁর ওপর বারবার আক্রমণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত কিছুর পরও তিনি নিজের কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হননি।

তিনি ‘হিমালয় পর্বতের মতো মাথা উঁচু করে’ দৃঢ় পায়ে এগিয়ে গেছেন এবং নিজের অঙ্গীকারে অটল থেকেছেন।

রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও স্মৃতি

বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে রিজভীর এই বক্তব্য যেন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিচ্ছবি—আঘাত এসেছে, প্রতিকূলতা এসেছে, কিন্তু নেতৃত্বের প্রশ্নে তিনি পিছিয়ে যাননি। শুধু বিএনপির নেত্রী নন, একটি রাজনৈতিক আবেগ দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন থেকে দলের রাজনৈতিক আবেগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন।

দলটির নেতাকর্মীদের কাছে তাঁর নাম উচ্চারিত হয় গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো ক্ষমতায় থাকাকালীন যেমন তিনি আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব কমেনি। বরং বিভিন্ন সংকটের সময়ে দলের নেতাকর্মীরা তাঁর নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানের দিকেই তাকিয়ে থেকেছেন।

বিএনপির কাছে খালেদা জিয়া একই সঙ্গে দলনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আন্দোলনের প্রতীক। তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সামনে রেখেই দলটি নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির পথ নির্ধারণ করেছে।

এবারের জন্মদিনে বিএনপি দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে স্মরণ করছে। রাজধানীর নবাবপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে আয়োজন করা হয়েছে কর্মসূচি। তবে জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতার চেয়েও বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে এই দিনটি একজন নেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামকে স্মরণ করার দিন।

যে নেত্রী তাদের কাছে গণতন্ত্রের প্রতীক, যার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আন্দোলন-সংগ্রামের অসংখ্য স্মৃতি। সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতির অনেক চরিত্র বদলেছে, অনেক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার নাম এখনো দেশের রাজনীতিতে প্রবলভাবে উচ্চারিত হয়। কারণ তাঁর রাজনৈতিক জীবন কেবল ক্ষমতায় থাকা বা না থাকার হিসাব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ, প্রতিকূলতা এবং একটি রাজনৈতিক দলের কয়েক দশকের ইতিহাস।

আজ ৮২তম জন্মদিনে তাই বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে খালেদা জিয়া শুধুই একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন। তাদের চোখে তিনি সেই নেত্রী—যিনি ঝড়ের মধ্যেও দাঁড়িয়ে থেকেছেন, আঘাতের পরও রাজনৈতিক অঙ্গীকার থেকে সরে যাননি এবং যাকে রুহুল কবির রিজভীর ভাষায়, ‘হিমালয় পর্বতের মতো মাথা উঁচু করে’ এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সেই খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ।

Frequently Asked Questions

What is আপসহ ন ন ত র খ ল?

আপসহ ন ন ত র খ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does আপসহ ন ন ত র খ ল matter?

আপসহ ন ন ত র খ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment