National

গণঅভ্যুত্থানের ‘জীবন্ত সাক্ষী’ জুলাই স্মৃতি জাদুঘর

গণঅভ য ত থ ন র জ - ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া আন্দোলনটি শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে যখন শিক্ষার্থীরা পথে

Desk National
Published August 6, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Mary Williams - bangladailypost.com
Table of Contents
  1. জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর: ইতিহাসের নতুন ঠিকানা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর: ইতিহাসের নতুন ঠিকানা

Bangladailypost.com – গণঅভ য ত থ ন র জ – ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া আন্দোলনটি শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে যখন শিক্ষার্থীরা পথে নামে, তখন উচ্চ আদালতের রায়ের কারণে পুরনো কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়। এরপর মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে তারা বিক্ষোভ শুরু করে। কিন্তু দমন-নিপীড়নের কারণে এই আন্দোলন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ও দেশ ছাড়তে হয়। এই রক্তাক্ত আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল গণভবন, যেখানে ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা দখল করে নেয়।

এই গণভবন এখন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে পরিচিত। অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জাদুঘর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরদিন থেকে সাধারণ মানুষের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়। সকাল থেকেই নগরী ও আশপাশের জেলার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এই জাদুঘর।

দর্শনার্থীদের ভিড় ও মতামত

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেরেবাংলা নগর এলাকায় জাদুঘরের সামনে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। প্রধান ফটকে অপেক্ষমাণ মানুষের সারি ছিল দীর্ঘ। ভেতরে ঢুকতে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকশ মানুষ। বেলাল নামের এক দর্শনার্থী জানান, সকাল ৯টা থেকে দাঁড়িয়ে আছেন। গেট বন্ধ থাকায় অনলাইন-অফলাইন দুভাবেই টিকিট কাটার চেষ্টা করেছেন কিন্তু সম্ভব হয়নি। পরে ভেতরে অবজেকশন দিয়েছেন।

সকাল ৯টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। এসে দেখি গেট বন্ধ। কেউ খুলছে না। অনলাইন-অফলাইন দুভাবেই টিকিট কাটার চেষ্টা করলাম কিন্তু সম্ভব হলো না। পরে ভেতরে অবজেকশন দিলাম, এখন তারা চেষ্টা করছে। আমরা যারা টিকিট কাটতে পারি নাই তারা ভেতরে গিয়ে টিকিট কাটবো।

বেলা ১১টা নাগাদ ফটক খুলতেই দর্শনার্থীরা একে একে প্রবেশ করতে থাকেন। মেহেদী হাসান বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো দেখার জন্য এসেছেন। মনের অনুভূতি থেকেই ঘুরতে এসেছেন। জুলাইয়ের দিনগুলোতে তারাও মাঠে ছিলেন। অনেক পরিবারই আন্দোলনে ছিল। এখন ভেতরে যাবেন। আন্দোলনের কী স্মৃতি দিয়ে সাজিয়েছে, সেগুলো দেখবেন।

মনের অনুভূতি থেকেই ঘুরতে এসেছি। জুলাইয়ের দিনগুলোতে আমরাও মাঠে ছিলাম। অনেক পরিবারই আন্দোলনে ছিল। এখন ভেতরে যাবো। আন্দোলনের কী স্মৃতি দিয়ে সাজিয়েছে, সেগুলো দেখবো। জুলাইয়ের বাস্তব চিত্রগুলো দিয়েছে কি না, না কি মডিফাই করে কিছু দিয়েছে, সেগুলোই দেখতে এসেছি।

আব্দুস সবুর নামের আরেক দর্শনার্থী জানান, জুলাই একটা ইমোশনের জায়গা। এটা একটা হিস্টোরিক্যাল ও ম্যাজিক্যাল হাউজ। গাজীপুর থেকে অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেখতে এসেছেন। দেখবেন এর ভেতরে কী আছে। এখান থেকেই তো পুরো দেশের কলকাঠিগুলো নাড়ানো হতো। সেগুলোই দেখতে এসেছেন।

জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য ও প্রদর্শনী

ভেতরে প্রবেশ করতেই সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে লাল রঙের একটি ভাঙা প্রাইভেটকার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। উপস্থিত দর্শনার্থীদের ধারণা, আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ের সাক্ষী এই গাড়ি। এরপর সামনে এগিয়ে যেতেই সড়কের পাশে জুলাই আন্দোলনের ছবি ও লেখা সম্বলিত লম্বা বেশকিছু ফেস্টুন চোখে পড়ে। একই সঙ্গে মাঠের মাঝখানে বৃহৎ জায়গাজুড়ে বৃত্তাকার আকৃতির প্রতীকী গণকবরের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর চারদিকে খোদাই করে লেখা রয়েছে শহীদদের নাম।

এছাড়া মূল জাদুঘরের চারপাশজুড়ে থাকা সবুজ মাঠের বিভিন্ন স্থানে কিছু দূর পরপর নানা ভাস্কর্য বসানো হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে আলোচনা সৃষ্টি করা ঘটনা অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে এসব ভাস্কর্য। যার মধ্যে রয়েছে জুলাইয়ে শহীদ মিনারের সামনে একজন রিকশাচালকের স্যালুট দেওয়ার দৃশ্য। আছে শহীদের মরদেহ কাঁধে নিয়ে রাজপথে মিছিলের ভাস্কর্য। সেই সঙ্গে স্কুলছাত্রীর সাইকেল চালিয়ে আন্দোলনে যোগ দেওয়া, রিকশার ওপরে গুলিবিদ্ধ মরদেহ, পুলিশের সাঁজোয়া যানে ঝুলে থাকা আন্দোলনকারীর মরদেহ, ইত্যাদি চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

পাশাপাশি আছে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের ওপর ভাস্কর্য। সহকর্মীর কফিন কাঁধে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া সেনা কর্মকর্তাদের ছবি অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে এটি।

অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল ভেতরে কী আছে দেখার। সরকার পতনের পর কখনো সেই সুযোগ হয়নি। আজ এসেছিলাম দেখতে। সব ঘুরে ঘুরে দেখলাম, ভালো লাগলো। ভেতরে ঢুকলে আন্দোলনের দিনগুলো সম্পর্কে যে কেউ উপলব্ধি করতে পারবে যে দিনগুলো কতটা ভয়াবহ ছিল। সবকিছু দেখে ভালো লেগেছে।

আভ্যন্তরীণ প্রদর্শনী

মূল জাদুঘরে প্রবেশ করে দেখা যায়—প্রতিটি কক্ষই যেন ইতিহাসের জানালা খুলে দিয়েছে। ‘১৬ বছরের ফ্যাসিবাদনামা’ শীর্ষক কক্ষে শেখ হাসিনার ১৫ বছর সাত মাসের একটি সংক্ষিপ্ত সফর তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে জুলাইয়ে ক্ষতবিক্ষত নানা আসবাবসহ বিভিন্ন জিনিস প্রদর্শিত হচ্ছে। অন্য একটি কক্ষের নামকরণ করা হয়েছে ‘টর্চার রুম’। সেখানে পরিচিতি লেখা রয়েছে—এই কক্ষটি স্বৈরাচারী হাসিনার শাসনামলের অমানবিক অত্যাচার ও ক্ষমতার নৃশংসতার সাক্ষী। এখানে প্রদর্শিত যন্ত্র ও সরঞ্জামগুলো কেবল ধাতব বস্তু নয়, এগুলো বন্দিদের ওপর চালানো সীমাহীন নির্যাতনের প্রতীক।

Frequently Asked Questions

What is গণঅভ য ত থ ন র জ?

গণঅভ য ত থ ন র জ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does গণঅভ য ত থ ন র জ matter?

গণঅভ য ত থ ন র জ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment