হিরোশিমা: এক মুহূর্তে যা হয়েছিল মৃত্যুপুরী
Bangladailypost.com – চ খ র পলক ম ত য – বিশ্বের প্রতিটি মানুষ হিরোশিমা শব্দটি জানে। জাপানের এই শহরটি আর কেবল একটি ভৌগোলিক নাম নয়। আট দশক পার হলেও এর কালো অধ্যায় মানুষের হৃদয়ে গভীর আঘাত রেখে গেছে। কেন এখনো এই নাম শুনলে মানুষ চমকে ওঠে? কারণ এই শহরের ইতিহাস মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।
১৯৪৫ সালের সেই ভয়ংকর সকাল
দিনটি ছিল ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখনও চলছে। হিরোশিমার সেই সকালটা ছিল সাধারণ দিনের মতোই। শিশুরা স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কর্মীরা বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। দোকানপাট খুলতে শুরু করেছিল। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোর থেকে কোনো বিশেষ পার্থক্য ছিল না।
সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২৯ বোমারু বিমান এনোলা গে আকাশে উপস্থিত হয়। এই বিমান থেকে বিশ্বের প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমা ‘লিটল বয়’ নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু বোমাটি মাটিতে পড়ে নি। প্রায় ৬০০ মিটার উচ্চতায় এটি বিস্ফোরিত হয়।
বিস্ফোরণের পরের দৃশ্য
বিস্ফোরণের সাথে সাথে তীব্র আলোর ঝলক দেখা দেয়। কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড শকওয়েভ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। বিস্ফোরণস্থলের আশপাশে থাকা অসংখ্য মানুষ মুহূর্তের মধ্যেই প্রাণ হারায়। অনেকের শরীর এতটাই পুড়ে যায় যে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ভবন ধসে পড়ে। কাঠের তৈরি ঘরবাড়িগুলোতে আগুন ধরে যায়। জাপানের তখনকার বেশিরভাগ বাড়ি কাঠের তৈরি ছিল। সে কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পুরো শহর বিশাল অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হয়।
অনেক মানুষ আগুন থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। কিন্তু নদীগুলোও মৃত ও আহত মানুষের ভিড়ে পরিণত হয়েছিল।
বিকিরণের ভয়াবহ প্রভাব
হিরোশিমায় বোমা হামলার আরেকটি ভয়াবহ দিক ছিল বিকিরণ। বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে যাওয়া অনেক মানুষ প্রথমে সুস্থ মনে হলেও কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারো চুল ঝরে যায়। কারো শরীরে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। আবার অনেকের জ্বর, বমি ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
সে সময় চিকিৎসকেরা এসব লক্ষণের কারণও পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। পরে জানা যায়, এগুলো ছিল তেজস্ক্রিয়তার মারাত্মক প্রভাব। হামলার পর আকাশে তৈরি হয় বিশাল ধোঁয়ার মেঘ। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় ‘ব্ল্যাক রেইন’ বা কালো বৃষ্টি।
এই বৃষ্টিতে তেজস্ক্রিয় ধুলা, ছাই ও ধোঁয়ার কণা মিশে ছিল। ফলে পানির রং হয়ে গিয়েছিল একদম কালো। মনে হচ্ছিল আকাশ থেকে যেন কালো কোনো তরল ঝরে পড়ছে মাটিতে। যারা এই বৃষ্টির সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাদের অনেকেই পরে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও হিবাকুশা
হিরোশিমার মানুষের জীবনে এই হামলার প্রভাব বহু বছর ধরে রয়ে যায়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও হাজার হাজার মানুষ ক্যানসার, বিশেষ করে লিউকেমিয়া এবং অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত হন। অনেক শিশুর জন্মগত শারীরিক সমস্যাও দেখা যায়। পারমাণবিক বিস্ফোরণের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে আজও গবেষণা চলছে।
জাপানে পারমাণবিক বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বলা হয় ‘হিবাকুশা’। তারা শুধু হামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী নন, বরং পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতার জীবন্ত দলিল। বহু হিবাকুশা সারা বিশ্বে ঘুরে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো দেশ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করে।
স্মৃতিস্তম্ভ ও নতুন হিরোশিমা
হামলার সময় হিরোশিমার অধিকাংশ ভবন ধ্বংস হয়ে গেলেও কয়েকটি স্থাপনা আংশিকভাবে টিকে ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ‘জেনবাকু ডোম’ বা বর্তমান হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল। ধ্বংসস্তূপ হিসেবে এটি সংরক্ষণ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যুদ্ধের সেই বিভীষিকা ভুলে না যায়।
হিরোশিমার তিন দিন পর, ৯ আগস্ট, জাপানের আরেক শহর নাগাসাকিতেও দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। দুটি হামলায় ১৯৪৫ সালের শেষে এসে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই জাপান আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
কিন্তু আজকের হিরোশিমা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি শহর। এখন আধুনিক স্থাপনা, ব্যস্ত সড়ক ও উন্নত অবকাঠামোয় ভরপুর এই শহর। প্রতি বছর ৬ আগস্ট শান্তির বার্তা নিয়ে বিশ্ববাসীকে একত্রিত করে। সেখানে নিহতদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয় এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানানো হয়। তারা আজও সেই হতভাগ্য মানুষগুলোর কথা স্মরণ করেন। যারা অকালে প্রাণ হারিয়েছেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is চ খ র পলক ম ত য?
চ খ র পলক ম ত য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does চ খ র পলক ম ত য matter?
চ খ র পলক ম ত য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.