Campus

জাবি / জালিয়াতির অভিযোগে আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে ৩২ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার

জ ব জ ল য় ত র - আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২২ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ৩২টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। গবেষণায়

Desk Campus
Published August 2, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Karen Wilson - bangladailypost.com
Table of Contents
  1. Related Reading
  2. Frequently Asked Questions

Bangladailypost.com – জ ব জ ল য় ত র – আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২২ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ৩২টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। গবেষণায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও অ্যাকাডেমিক অসদাচরণের অভিযোগে এসব নিবন্ধ বাতিল হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান ও অ্যাকাডেমিক সততা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক খ্যাতমানা বিভিন্ন গবেষণা সাময়িকী (জার্নাল) থেকে বৈজ্ঞানিক জালিয়াতি, গবেষণায় অনিয়ম ও অসদুপায় অবলম্বনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের ৩২৫টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রায় ১১টি বিভাগ ও একটি অনুষদের ১৮ জন শিক্ষক এবং চার শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা থাকা মোট ৩২টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাবির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের একক ও যৌথভাবে করা মোট ১০টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই বিভাগের অধ্যাপক ড.

মো. কবির উদ্দিনের যৌথভাবে করা দুটি গবেষণাপত্রও প্রত্যাহার হয়েছে। গণিত বিভাগের চার শিক্ষকের গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অধ্যাপক ড. মো.

আশরাফুল আলমের তিনটি এবং সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের দুটি গবেষণাপত্র রয়েছে। এ ছাড়া অধ্যাপক ড. আবেদা সুলতানা ও অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় কুমার পণ্ডিতের যৌথভাবে করা একটি গবেষণা নিবন্ধ ‘জার্নাল অব ইন্টেলিজেন্ট অ্যান্ড ফাজি সিস্টেমস’ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সভাপতি ড. মো.

সাখাওয়াত হোসেনের দুটি, অধ্যাপক ড. মাহফুজা মোবারকের একটি এবং অধ্যাপক ড. মো.

তাজউদ্দিন সিকদারের একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে। বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সোহেল ও সহকারী অধ্যাপক নাফিসা নাওয়াল ইসলামের একটি করে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো.

মুশফিক আনোয়ারের একটি গবেষণাপত্র স্প্রিঞ্জার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এ মামুনের একটি গবেষণাপত্রও স্প্রিঞ্জারের সাময়িকী থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো.

শফিকুল ইসলামের একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের তথ্যও রয়েছে। এ ছাড়া রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এনামুল হকের একটি গবেষণা আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিসংখ্যান ও ডেটা সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড.

মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের একটি এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শওকত হোসেনের একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের অধ্যাপক ড.

কে এম জাহিদুল ইসলামের একটি গবেষণাপত্র এলসেভিয়ার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রকাশিত ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, জাবির বায়োটেকনোলজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. নাজমুল ইসলাম প্রত্যয়, পাবলিক হেলথ বিভাগের মো. ইস্তিয়াক রহমান, ফার্মেসি বিভাগের মিনহাজ আবদুল্লাহ আল মুইদ এবং প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের জাহিদুর রহিমের নামযুক্ত কয়েকটি গবেষণাপত্রও প্রত্যাহার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রকাশকারী সংস্থা ‘রিট্র্যাকশন ওয়াচ’-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্প্রিঞ্জার, এলসেভিয়ার, ওয়াইলি, প্লস ওয়ান ও আইইইই-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও সাময়িকী থেকে জাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসব প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভুয়া বা অনিয়মিত পিয়ার রিভিউ, সাইটেশন অনিয়ম, তথ্যের অসঙ্গতি ও বিকৃতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কম্পিউটার-জেনারেটেড কনটেন্টের ব্যবহার এবং ‘পেপার মিল’ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানহীন গবেষণাপত্র তৈরির মতো অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে অধ্যাপক মো.

মোস্তাফিজুর রহমানের মাইক্রোপ্লাস্টিক, চা-পাতা ও কোভিডের ইকোটক্সিকোলজি-সংক্রান্ত একাধিক গবেষণাপত্রে তথ্য ও পিয়ার রিভিউ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক প্রকাশকেরা সেগুলো প্রত্যাহার করেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‌‌‘কোথায় সমস্যা হয়েছে, তা আমি সঠিকভাবে জানি না। তবে এই ঘটনার পর আমি সতর্ক হয়েছি এবং বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’ এদিকে গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের এসব তথ্য প্রকাশের পর জাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের দাবি, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় জাবির গবেষকদের গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের সংখ্যা উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার নৈতিক মান বজায় রাখা ও অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর অ্যাকাডেমিক সততা নীতিমালা না থাকায় এরকম হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। জাবির প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কবিরুল বাশার গবেষণাপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, র‍্যাংকিং বা সাইটেশনের পেছনে ছুটতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে গবেষণার গুণগত মান বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের ভুয়া বা প্রত্যাহার হওয়া প্রকাশনা উল্টো মেধাবী ও প্রকৃত গবেষকদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্ষুণ্ন করে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। একই সঙ্গে গবেষণার নামে এ ধরনের অনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.

মামুন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো শিক্ষক বা গবেষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করা এবং ব্যবস্থা নেওয়া প্রথমত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয় যদি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে ইউজিসি নিজ উদ্যোগে তদন্ত কমিটি গঠন করে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের এ ঘটনা নিয়ে জাবির গবেষণার মান, প্রকাশনা-নির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং অ্যাকাডেমিক সততা নিশ্চিত করার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মো. রকিব হাসান প্রান্ত/কেএইচকে/জেআইএম

Frequently Asked Questions

What is জ ব জ ল য় ত র?

জ ব জ ল য় ত র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does জ ব জ ল য় ত র matter?

জ ব জ ল য় ত র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment