কক্সবাজার রেলপথে নতুন ট্রেন ও স্টেশন পরিচালনার পরিকল্পনা
Bangladailypost.com – প রত মন ত র হ ব – রেলপথ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ঘোষণা দিয়েছেন যে, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ নামে একটি নতুন ট্রেন চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শনিবার, অর্থাৎ ১ আগস্ট তারিখে চকরিয়ায় অবস্থিত তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এই তথ্যটি জানান।
এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল কক্সবাজারের আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনটি বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করে পরিচালনার জন্য লিজ প্রদান করা হবে কিনা, তা নিয়ে সম্ভাবনা যাচাই করা। এর আগে তিনি দুই দিনব্যাপী সফরে কক্সবাজারমুখী রেলপথের বিভিন্ন স্টেশন পরিদর্শন করেন। এই সময় পর্যবেক্ষক দল স্টেশনগুলোর অবকাঠামো, পরিচালন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাত্রীসেবা এবং পরিবেশগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে।
যাত্রীসেবা ও সংযোগ সুবিধা
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, নতুন ট্রেনটি চালু হলে চকরিয়া এবং তার আশপাশের এলাকার যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারবেন। ফলে তারা ঢাকাগামী ট্রেনের সাথে সহজেই সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হবে। এতে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনটি বেসরকারি খাতে পরিচালনার জন্য হস্তান্তর করা হলে তা কতটা কার্যকর ও জনবান্ধব হবে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এ রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনের সার্বিক অবস্থা, পরিচালন ব্যবস্থা এবং যাত্রীসেবার মানও।
পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিষয়ক পদক্ষেপ
পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য দেশের মোট ভূমির অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের সময় বন বিভাগের প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটা হয়েছিল। এর পরিবর্তে যে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই চলছে। পাশাপাশি আরও কোথায় এবং কত সংখ্যক গাছ লাগানো সম্ভব, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রেলপথের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে হাবিবুর রশিদ বলেন, চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও হারবাংসহ বিভিন্ন রেলস্টেশনে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। এ জন্য পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা এবং রেলওয়ে পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব রেলব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। কক্সবাজার রেলপথকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় সব দিক পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই সময় কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলসহ রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
