Economy

লোকসানের অজুহাতে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়

ল কস ন র অজ হ ত - দেশের ভোজ্যতেল বাজারে মূল্য বৃদ্ধির জন্য আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতি লিটারে দশ

Desk Economy
Published July 26, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Joseph Hernandez - bangladailypost.com

ভোজ্যতেল আমদানিকারকদের দাম বাড়ানোর দাবি

Bangladailypost.com – ল কস ন র অজ হ ত – দেশের ভোজ্যতেল বাজারে মূল্য বৃদ্ধির জন্য আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতি লিটারে দশ টাকা করে দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোম্পানিগুলো বিশ্ববাজারের সাথে সমন্বয় দেখিয়ে এই প্রস্তাব করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে টানা লোকসান বহন করে আমদানি চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে তাদের দাবি। তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গত ১১ জুলাই প্রথমবারের মতো দাম বাড়ানোর বিষয়ে প্রস্তাব জমা দেয়। এরপর গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একদফা আলোচনাও আয়োজন করে। কিন্তু কোনো সমাধান ছাড়াই সেই বৈঠকের সমাপ্তি ঘটে। চলতি সপ্তাহে আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, সেখানে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও প্রস্তাবিত দাম

ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধিসহ নানান কারণে দাম বাড়িয়ে স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন। বর্তমান দামে তারা লোকসান করছেন। এই অবস্থায় প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা বাজার দাম দশ টাকা বাড়িয়ে দুশো নয় টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও লিটারপ্রতি দশ টাকা বাড়িয়ে পাঁচ লিটারের বোতল এক হাজার পনেরো টাকা এবং খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে একশো আশি টাকা নির্ধারণ করতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে খোলা পাম তেলের দামও বাড়িয়ে প্রতি লিটার একশো আশি তিন টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপণ্যে একগুচ্ছ করছাড় দেওয়া হয়েছে। সেসব সমন্বয় করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও প্রায় তিনমাস আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি চার টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল।

বিশ্ববাজারের দাম ও মন্ত্রণালয়ের অবস্থান

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাবের পর আমরা ওইসব ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেছিলাম। তবে ওইদিন বড় বড় কোম্পানির অল্প কিছু প্রতিনিধি ছিলেন। যে কারণে এই বিষয়ে সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তখন সিদ্ধান্ত হয় যে, পরে আরও একটি সভা করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে দাম কত হওয়া উচিত—বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) মাধ্যমে তা বিশ্লেষণে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। এই অবস্থায় বিটিটিসির তথ্যে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারেও বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। এখন বিশ্ববাজারে টনপ্রতি অপরিশোধিত সয়াবিন তেল এক হাজার একশো একুশ মার্কিন ডলারে বিক্রি হচ্ছে। মাসখানেক আগে যা ছিল এক হাজার একশো ছাব্বিশ মার্কিন ডলার। এক বছর আগে এই দাম ছিল এক হাজার সাতানব্বই ডলার।

একইভাবে বেড়েছে পাম তেলের দামও। বর্তমানে প্রতি টন অপরিশোধিত পাম তেল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার একশো ছাব্বিশ ডলার। এক মাস আগে যা ছিল এক হাজার একশো পঞ্চাশ ডলার এবং এক বছর আগে বিক্রি হচ্ছিল এক হাজার একশো পঞ্চাশ ডলারে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দামের সাথে তারতম্য রয়েছে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

আমাদের আমদানি পর্যায়ে সব খরচ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে পরিবহন খরচও। এসব কারণে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে। টানা লোকসান হলে এভাবে আমদানি করা সম্ভব হবে না।

— টি কে গ্রুপের পরিচালক মো. শফিউল আতহার তসলিম

আমদানি পর্যায়ে সব খরচ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে পরিবহন খরচও। এসব কারণে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে। টানা লোকসান হলে এভাবে আমদানি করা সম্ভব হবে না।

Leave a Comment