Country

গুজবে দিনাজপুরে তেলের পাম্পে ভিড়

গ জব দ ন জপ র ত - সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের খবরে দিনাজপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল কেনার জন্য মানুষের ভিড় বেড়েছে। মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাসসহ

Desk Country
Published July 23, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Richard Moore - bangladailypost.com

দিনাজপুরে গুজবের কারণে তেলের পাম্পে ভিড় বাড়লো

Bangladailypost.com – গ জব দ ন জপ র ত – সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের খবরে দিনাজপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল কেনার জন্য মানুষের ভিড় বেড়েছে। মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পাম্পে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন। তবে একাধিক স্টেশনের মালিকরা জানান, এটি কোনো সরবরাহ সংকট নয়, বরং গুজবের কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ একসঙ্গে তেল কিনতে আসছেন।

গুজবের প্রভাবে তেল কেনার ভিড়

বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের চালকদের ভিড় বাড়াতে শুরু করে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো মোটরসাইকেল চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন শুধু জ্বালানি তেল সংগ্রহের আশায়। হঠাৎ চাহিদার চাপে রাত নটার মধ্যেই জেলার অনেক ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের মজুদ সাময়িকভাবে শেষ হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কোনো সরবরাহ সংকটের চিত্র নয়, বরং গুজবের কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ একসঙ্গে তেল কিনতে আসা এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দিনাজপুরের পরিস্থিতির সত্যতা যাচাই করতে পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারীর একাধিক ফিলিং স্টেশন আমাদের প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করে এই চিত্রের খবর পাওয়া গেছে। তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের প্রভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়ে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ তেল কিনতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করেছেন।

আতঙ্কের কারণে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ

জানা গেছে, বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ছবি ও ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই সেসব পোস্ট হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। সে কারণে অনেকের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, যেকোনো সময় জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে। সেই আতঙ্ক থেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহে নেমে পড়েন অনেক চালক।

সকাল থেকে সরেজমিনে শহরের একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাসের দীর্ঘ সারি পাম্পের ভেতর থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। হিমশিম খেতে হচ্ছে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের। অনেক চালককে তেল নেওয়ার জন্য ১ থেকে দেড় ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

চালকদের মতামত

কয়েক মাস আগে তেল সংকটের অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ার মানুষ হুমকি খেয়ে পড়ে। খোলা বাজারেও তেলের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে।

তেলের দাম আগেই বেড়েছে। এখন আবার যুদ্ধের কারণে সংকটের খবর শুনে তেল নিতে এলাম। ভবিষ্যতে সংকট হতে পারে এই আশঙ্কা থেকেই আগাম তেল সংগ্রহ করছি।

— শাকিল হোসেন

ফেসবুকে দেখছি ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তাই তেল নিতে এসেছি। এরপর যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়, তাহলে আমাদের জন্য কষ্টকর হবে। তাই আজই তেল নিয়ে রাখছি।

— গাড়ি চালক দুলাল হোসেন

স্টেশন মালিকদের বক্তব্য

উপশহর হাউজিং মোড় মেসার্স পাইওনিয়ারের ফিলিং স্টেশনের মালিক মফিদুল্লাহ চৌধুরী বাবলা বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি রয়েছে। কোনো প্রকার তেলের সংকট নেই। তাই গুজবে কান দিয়ে অযথা পাম্পে ভিড় না করে প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল স্বাভাবিকভাবে ক্রয় করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির প্রতিনিধি রাহবার কবির পিয়ার বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। হঠাৎ করে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গ্রাহক আসছে। আমাদের তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি করছি। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত তেল স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ পাবো এবং বিক্রি করবো, ততক্ষণ আমরা এটাকে সংকট বলবো না। গুজবে কান দিয়ে অযথা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কেনার কোনো প্রয়োজন নেই।

এমদাদুল হক মিলন/এনএইচআর/এএসএম

Leave a Comment