কলমাকান্দা নির্বাচন কার্যালয়ের তিন কর্মচারীর চাকরিচ্যুতি: রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব দেওয়ার অভিযোগে
Bangladailypost.com – র হ ঙ গ ক ন গর – নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের আউটসোর্সিংয়ের তিনজন কর্মচারীকে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব প্রদানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে। সোমবার (২০ জুলাই) এই তিনজনকে তাদের কর্মসংস্থান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের পরিচয়
বরখাস্তকৃত কর্মচারীরা হলেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া, আরিফ মিয়া এবং স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার, যিনি হীরা নামেও পরিচিত। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কলমাকান্দার রামনাথপুর পাগলা এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে এক রোহিঙ্গাকে টাকার বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং পাসপোর্ট সংগ্রহ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এর পাশাপাশি নেত্রকোনা সদর এলাকার ঠিকানা দেখিয়ে আরেক রোহিঙ্গাকে আইডি তৈরি করে দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। এই কাজে নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন কমিশন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের পরে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের আউটসোর্সিংয়ের তিন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিবৃতি
এই তথ্য নিশ্চিত করে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফাqqul হোসেন বলেন,
রোহিঙ্গা নাগরিককে নাগরিকত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর নির্বাচন কমিশন থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত ঢাকায় তিনজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
তিনি আরও জানান,
ওই তিনজন নির্বাচন কার্যালয়ের স্থায়ী কেউ নন, তারা কোম্পানির হয়ে আউটসোর্সিংয়ে নির্বাচন অফিসে কাজ করছিলেন। জেলার এ সংক্রান্ত আরও যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোরও তদন্ত চলমান।
প্রাণনাশের হুমকি ও পুলিশের তদন্ত
এদিকে, চাকরিচ্যুত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া সোমবার রাতে মুঠোফোনে ইবাদ হোসেন নামের এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইবাদ হোসেন গতকাল রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ইবাদ হোসেন বলেন,
অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাঞ্চন মিয়া ২০ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে মুঠোফোনে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এ নিয়ে আমি শঙ্কায় আছি। আশা করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কাঞ্চন মিয়ায় মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খালেক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এইচ এম কামাল/কেজে/এএসএম
