International

সুদান সংকট / যুক্তরাজ্যের আয়োজনে আমিরাত-আরএসএফ’র গোপন বৈঠক!

স দ ন স কট য ক - বিশ্বের নানা সংকটের মধ্যে সুদানের গৃহযুদ্ধজনিত মানবিক বিপর্যয় অন্যতম। জাতিসংঘ একে মারাত্মক মানবিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই উদ্বেগের

Desk International
Published July 23, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Richard Moore - bangladailypost.com

সুদান সংকট: আমিরাত ও আরএসএফের গোপন আলোচনা

Bangladailypost.com – স দ ন স কট য ক – বিশ্বের নানা সংকটের মধ্যে সুদানের গৃহযুদ্ধজনিত মানবিক বিপর্যয় অন্যতম। জাতিসংঘ একে মারাত্মক মানবিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই উদ্বেগের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) গোপনে বৈঠক করেছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের আয়োজনে এই বৈঠকে আরএসএফের রাজনৈতিক শাখার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

উইলটন পার্কে বৈঠকের বিবরণ

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মিডল ইস্ট আই সংবাদমাধ্যম বুধবার (২২ জুলাই) যুক্তরাজ্যের উইলটন পার্কে অনুষ্ঠিত এই গোপন বৈঠকের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অনেক বিশ্লেষক মত দিয়েছেন যে, এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পক্ষকে আমন্ত্রণ না জানানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যুক্তরাজ্যের নতুন মন্ত্রীসভা গঠনের দুই দিন পরই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মিডল ইস্ট আই-র তথ্য অনুযায়ী, সুদানের আধাসামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক জোট ‘তাসিস’-এর নেতা নাসরেদ্দিন আবদুলবারি যুক্তরাজ্যের আয়োজিত উইলটন পার্ক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। তার সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি প্রতিনিধিদলও রয়েছে। বুধবার থেকে শুক্রবার (২২-২৪ জুলাই) পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে সুদানের সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ব্রিটিশ সরকারের একাধিক সূত্র এই আয়োজনকে ‘গোপনীয়’ বা ‘নির্দিষ্ট পরিসরের’ বৈঠক হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইউএই-এর সঙ্গে সম্পর্ককে সুদানে নৃশংসতা ঠেকানোর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য — ইয়েলের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাবের (এইচআরএল) নির্বাহী পরিচালক ন্যাথানিয়েল রেমন্ড।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ

ন্যাথানিয়েল রেমন্ড ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি কমিটিকে জানিয়েছিলেন যে, সুদানে নৃশংসতা ঠেকানোর চেয়ে যুক্তরাজ্য আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ)-এর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত আধা-সামরিক বাহিনী আরএসএফ। এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে দারফুরে গণহত্যাসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে অভিযোগ তুলেছে। আরএসএফকে আমিরাত সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ থাকলেও আবুধাবি তা অস্বীকার করে আসছে।

সুদান সংকট: স্বর্ণে জ্বলজ্বল, ক্ষুধায় আর্তনাদ — এছাড়া সুদান ইস্যুতে যুক্তরাজ্য সাম্প্রতিক সময়ে আরএসএফের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত জুন মাসে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে ব্রিটিশ সরকার বলেছিল, এল-ফাশের শহরে সংঘটিত অপরাধগুলো বহন করে। গত তিন বছরে আমিরাতে ৪২২ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৫৬৫ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের অস্ত্র রপ্তানি করে যুক্তরাজ্য। সুদানের যুদ্ধক্ষেত্রে ব্রিটিশ তৈরি সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানবিক সংকট ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

সুদানের যুদ্ধকে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানে পুনরায় শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং গাজা পরিস্থিতি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতিতে বর্তমানে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কিছু কূটনৈতিক সূত্র আশা করছে, মিলিব্যান্ড সুদানে ইউএইর ভূমিকার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে পারেন।

Leave a Comment