Country

দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মিললো নিখোঁজ যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথা

og_1784762134_6a614f162e20d

দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মিললো নিখোঁজ যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথা

Bangladailypost.com – দ র গন ধ র উৎস খ – ময়মনসিংহের অম্বিকাগঞ্জ কলেজ এলাকায় উৎকট দুর্গন্ধের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে পুলিশ একটি বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করেছে। ওই মাথাটি নিহত যুবক সোহেল মিঞার। তিনি ২৬ বছর বয়সী এবং সাত দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। সোহেল সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা। বুধবার (২২ জুলাই) রাত নটার দিকে কলেজ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

নিহত সোহেল মিঞা পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগম দম্পতির তৃতীয় সন্তান। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয় ছিলেন। পেশায় তিনি গাছকাটার শ্রমিক ছিলেন।

কীভাবে খুঁজে পাওয়া গেল মাথা?

সোহেলের বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অম্বিকাগঞ্জ কলেজের একটি একাডেমিক ভবনের স্থান নির্ধারণের কাজ চলছিল। বুধবার দুপুরে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা সেখানে গেলে উৎকট দুর্গন্ধ টের পান। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে ঘাসের ওপর একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

দুপুরের দিকে ভবন নির্মাণের জন্য স্থান পরিদর্শনে গিয়ে দুর্গন্ধ পাই। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে মানুষের একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পাই এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, এটি এলাকার নিখোঁজ যুবক সোহেলের মাথা।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে। পরে আশপাশের মাটি খুঁড়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে মাটির নিচে দুটি গ্লাভস পাওয়া যায়। পরে কয়েক ফুট গভীর থেকে উদ্ধার করা হয় মাথাবিহীন মরদেহ।

পরিচয় নিশ্চিত ও তদন্ত

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশরাফুল করিম জানান, পিবিআইয়ের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া, পরনের কাপড় দেখেও পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, বিচ্ছিন্ন মাথা ও মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে পিবিআইকে ডাকা হয়েছিল। এছাড়া ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

শ্বশুরের অভিযোগ: ভগ্নিপতি সেলিমের সাথে বিরোধ ছিল

নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত ১৬ জুলাই রাতে সোহেলের ভগ্নিপতি সেলিম মিঞা কাজের কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তিনি দাবি করেন, গাছ কাটার কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে সোহেল ও সেলিমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ কারণে সোহেল ঢাকায় গিয়ে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। বাড়িতে আসার খবর পেয়ে কাজ দেওয়ার কথা বলে সেলিম তাকে ডেকে নেন।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই সেলিম পলাতক আছেন বলে জানা গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না মেলায় বুধবার সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় জানানো হয়। তার বাবা নূরুল ইসলাম নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *